ছাত্রদের ত্যাগ চাই, আড়ম্বর যিন্দেগী নয়

ছাত্রদের ত্যাগ চাই, আড়ম্বর যিন্দেগী নয়

ছাত্রদের ত্যাগ চাই, আড়ম্বর যিন্দেগী নয়

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কওমীর ছাত্রদের ত্যাগ- কোরবানীর মাধ্যমে ইলম অন্নেষণে এগিয়ে যেতে হবে। সর্বদা মেহনত চাই,কোরবানী এবং ত্যাগ স্বীকার করা চাই। কোন ধরনের আড়ম্বরী জীবন যাপন নয়। আনন্দ- উল্লাসে ছুটে বেড়ানো নয়।

ছাত্র ভাইদের খুবই খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানী, ত্যাগ ছাড়া ইলম আসে না। নিরবিচ্ছিন্ন মেহনত-মোজাহাদা ছাড়া ইলম অর্জিত হয় না। ইলমের জন্য যত কোরবানী করা যাবে, যত ত্যাগ স্বীকার করা হবে, তত ইলম অর্জিত হবে। এবং সে ইলমে অনেক মজবুতি আসবে। আমাদের পুর্বসুরী যত আলেম – উলামা, আমাদের যত আকাবির -আছলাফ ছিলেন, সকলেই সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করে ইলম হাসিল করে ছিলেন।

একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, যিনি যত বড় আলেম, তাঁর কোরবানীও ছিল তত বড়। বহু কোরবানী আর ত্যাগের বিনিময়ে তারা বড় হয়েছিল। ঠিক বন্ধু, আমাদের বড় হতে হলে, বড় আলেম এবং ইলমে মজবুতি পাইতে চাইলে, সে সব পুর্বসুরীদের আলেমদের মত ত্যাগ স্বীকার করা চাই।

দুঃখজনক হলেও সত্য , আজকাল আমাদের কিছু কিছু ছাত্র ভাইদের মাঝে আড়ম্বরীভাব দেখা দিয়েছে, তারা ত্যাগ- কোরবানী স্বীকার না করে আড়ম্বরী যিন্দেগী বেছে নিয়েছে।
এখনকার বহু ছাত্র আছে, যারা কষ্ট করতে চায় না। কোন প্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না। তারা চায় শুধু আরাম আর আরাম।

নিজেদের পোশাক পরিচ্ছেদ, চাল- চলন, এখন অনেক আধুনিক। সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে।

এক সময় অভিভাবকগন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছেলেদের জন্য খরচ পাঠাতেন। এখন গার্জিয়ানদের সামর্থ্য থাকুক চাই না থাকুক, প্রতি মাসে ছেলেদের চাহিদা মোতাবেক খরচ দিতে হয়। বহু ছাত্র তার মাতা- পিতার প্রতি জুলুমের বোঝা চাপিয়ে দেন। যার কারনে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এখনকার বহু ছাত্রের হাতে স্মার্ট ফোন। অনেক দরিদ্র ঘরের সন্তান স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছে। কিছু কিছু ছেলে, তার গার্জিয়ান এর কাছে বায়না ধরছে, মা- বাবা সন্তানের প্রতি দুর্বল হয়ে হাজার হাজার টাকার মোবাইল সেট কিনে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

বছর খানেক আগে দেখে ছিলাম, একজন মা টাকা ধার করে তার সন্তানকে স্মার্ট ফোন কিনে দিচ্ছেন, বাবার অগোচরে। বাবা ফোন কিনে দিতে রাজি নয়, কিন্তু সে ছাত্রটি তার মায়ের কাছে এমন ভাবে বায়না ধরেছে, তার মা চুপিসারে তাকে ফোন কিনে দিতে বাধ্য হল।

এরকম বহু ছাত্র আছেন, বিভিন্ন কায়দা কৌশলে মা বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করে স্মার্ট ফোন এর মালিক বনে যাচ্ছেন।

ছাত্র ভায়েরা এখন নেট চালান পুরোদমে। প্রায় অনেক ছাত্রের ফেসবুক এ্যাকাউন্ট। ইমু, ওয়াটস আপ, মেইল ব্যবহার করেন।

আপনারাই জানেন, নেট চালালে কি পাওয়া যায়। ফেসবুকের মধ্যে কি আছে।

একজন ছাত্র যদি লেখা- পড়ার পাশাপাশি যদি নেট দুনিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, অবশ্যই তাঁর লেখা- পড়ায় ঘাটতি আসবে। সে ছাত্রটির জেহেন এলোমেলো হবে। কখনো সে একাগ্রতার সাথে পড়া-লেখা করতে পারবে না।

একারণে ছাত্র ভাইদের স্মার্ট ফোন থেকে দূরে থাকা চাই। ভাল লেখা-পড়া করতে হলে, একদম মোবাইল ছেড়ে দিতে হবে।

আমাদের বহু ছাত্র ভাই এখন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র রাজনীতি করব কিনা এ বিষয়ে মুরুব্বীদের সাথে পরামর্শ করা উচিত। যদি একান্ত ছাত্র রাজনীতি করতেই হয়, তবে যে সংগঠন আদব-আখলাকে ভরপুর।যেখানে গেলে আমলের প্রতি নিজেকে উৎসাহিত করবে, সে সব সংগঠনে শরীক হওয়া যেতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, সংগঠন করতে গেলেও নিজের পড়া- লেখার অনেক ব্যাঘাত আসবে। সে হিসেব মতে সংগঠন থেকে দূরে থাকাটাই উত্তম।

ছাত্রদের কোন প্রকার সমিতি, সামাজিক সংগঠন,এলাকা ভিত্তিক কোন সংগঠন, এরকম বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে একদম ফারেগ রাখা চাই।

বহু সমিতি,বহু সামাজিক এবং এলাকাভিত্তিক সংগঠন করতে গিয়ে, আমাদের অনেক মেধাবী ছাত্র ঝরে পড়েছে, এই কওমী অঙ্গন থেকে। তাদেরকে আর ফিরিয়ে আনা যায় নি।

অর্থই যত অনার্থের মুল। সমিতি করতে গিয়ে বহু টাকা- পয়সা যখন এক জায়গায় হয়, তখন অনেক ছাত্র বিপদগামী হয়। এটা নিয়ে পড়ালেখার চরম ক্ষতির সম্মুখিন হন ছাত্রগণ।

ছাত্র ভাইদের জেহেন একদম পরিষ্কার থাকতে হবে। একেবারে সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত থেকে লেখা-পড়ায় মনোযোগী হতে হবে। কোন ধরনের কোন ধান্দা, ফিকির থাকতে পারবে না। শুধু ফিকির থাকবে পড়া লেখার।

এভাবে সব কিছু পরিত্যাগ করে মেহনত চালাতে হবে। পড়া-লেখার জন্য শ্রম দিতে হবে। নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে মেহনত চালিয়ে যেতে হবে। আর এর দ্বারা সফললতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারবে প্রত্যেক ছাত্র।

আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *