পাথেয় রিপোর্ট ● শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ.-এর চিন্তাচেতনা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের অলিন্দে পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ফেরি করে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী। তিনি বলেন, শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ.-এর দুই দর্শন গুরুত্বপূর্ণ। ইলমের প্রচার ও সাংগঠনিকভাবে সাধারণ মানুষকে দ্বীনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। সেটাই আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের পুনঃগঠিত এই জমিয়ত করছে।
বাংলাদেশি জমিয়তুল উলামা ভারতের জমিয়তে উলামা হিন্দের আদলে এগিয়ে চলেছে দাবি করে মাওলানা কাসেমী বলেন, আমরা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। জঙ্গিকলঙ্কমুক্ত করতে যেমন জমিয়ত সবার চেয়ে অগ্রসর ভূমিকা রেখে চলেছে তেমনি কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি, আর্ত মানবতার সেবা, বিশ্ব আলেমউলামার অভিভাবকত্বসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করছে।

রোববার বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা মুক্তাগাছা উপজেলা শাখা আয়োজিত মাওলানা উবায়দুর রহমানের পরিচালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মাওলানা কাসেমী এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সরুদ্দীন মাকনুন বলেন, দ্বীনের কাজ করতে আপনাদের আগ্রহ আমাকে পুলকিত করেছে।আপনারা জমিয়তের কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেছেন। বক্তৃতায় শুনেছেন। সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই। আমি আশা করবো, ময়মনসিংহে মুফতি তাজুল ইসলাম ও মাওলানা উবায়দুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আপনারা জমিয়তের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
মুক্তাগাছার সাবেক পৌর মেয়র আবদুল হাই আখন্দ বলেন, একাত্তরে কিছু কিছু মানুষের নিন্দনীয় ভূমিকার কারণে উত্তম চিন্তাশীল আলেমদের ব্যাপারেও মানুষ খারাপ ধারণা পেয়েছে।
জামায়াতের ইসলাম নবীজীর ইসলাম নয় দাবি করে তিনি বলেন, লেবাসধারী জামায়াতীদের কারণে আমরা আলেমদের সঠিক অনুকরণে বাধাগ্রস্ত হয়েছি।
আলেমরাও একাত্তরে অবদান রেখেছিল দাবি করে হাই আখন্দ বলেন, একাত্তরে এমন মসজিদও পেয়েছি, যেখানকার ইমাম নামাজের পর দুআ করেছেন , হে আল্লাহ! তুমি যে শক্তিকে ভালো জানো তাদেরকে তুমি কবূল করো। আমরা এরকম নিরপেক্ষ দুআ শুনেও আপ্লুত হয়েছি।
মুফতি তাজুল ইসলাম কাসেমী আকাবিরদের অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে বলেন, জমিয়তের পথচলাই হলো আকাবিরকে অনুসরণ করে। ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে আলেমদের যে ভূমিকা ছিল সেটা আজ মানুষ ভুলে গেছে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে আলেমদের অবদানের কারণেই পরে বাংলাদেশও স্বাধীনতা পেয়েছে।
সব সময়ই উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জনগণকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র হয়েছে দাবি করে মুফতি কাসেমী বলেন, আল্লামা মাসঊদের জমিয়ত সেই দূরত্ব ঘোচাতে চায়।
সমাজে এখনও আলেমদের প্রতি ভক্তি ও সম্মান আছে দাবি বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির বলেন, মধ্যরাতে কেউ কোনো আলেমকে কাছে পেলে স্বস্তি, শান্তি ও নির্ভরতা অনুভব করে। কিন্তু জঙ্গিবাদের কালিমা লেপন করে সেটা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে প্রতিনিয়ত।
জামিআ আশরাফিয়ার শাইখুল হাদিস মাওলানা নাছির উদ্দীন বলেন, ইলমের যাকাত বিলিয়ে থাকেন আলেমসমাজ।
মাওলানা কাজী মুতাসিমবিল্লাহ রহ.-এর উদ্বৃতি টেনে তিনি বলেন, কাজী সাহেব হুযূর ব্যয় সংকোচনকেও গুরুত্ব দিতেন। কেবল আয় বৃদ্ধিই অর্থনীতির আসল কথা নয়। ব্যয় সংকোচনও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ময়মনসিংহের উপদেষ্টা মাওলানা আবদুল হাই রাহমানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আবদুল গফুর, মাওলানা আবদুল্লাহ আল আমীন, আফম ইয়াহইয়া খান, মাওলানা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


