শেরপুর প্রতিনিধি ● ষড়ঋতুর দেশ ছিল আমাদের এই বাংলাদেশ। ঋতু অনুযায়ী আবহাওয়া বিরাজ করত এদেশে। আর ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করত। ব্যবসা-বাণিজ্যও ছিল ঋতু অনুযায়ী। বর্তমানে এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঋতুর সাথে সময়ের গরমিল হয়ে গেছে। যে কারণে পাল্টে গেছে সমস্ত জীব-বৈচিত্র্য থেকে শুরু চাষাবাদ ও ব্যবসা বাণিজ্য পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, বিগত বছরের তুলনায় পৌষ মাসের শুরুতে শীতের তেমন দেখা মেলেনি। কিন্তু গত ৩দিন যাবত প্রচন্ড শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলা সামান্য সূর্যের আলো চখে পড়লেও সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় ঘণ কুয়াশা, হিমেল হাওয়ার কারণে প্রচন্ড শীতের তীব্রতা। ঘনকুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে শীত রোগ আক্রান্ত হচ্ছে ছোট ছেলেমেয়ে ও বয়-বৃদ্ধ লোকেরা। অত্র জেলার গ্রামগুলিতে শীতজনিত রোগ নিমোনিয়া, আমাশয়, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা জ্বর ও বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে বহু শিশু ও বয়-বৃদ্ধ লোক। শীত আক্রান্ত রোগীরা প্রতিদিন সরকারী হাসপাতালে এসে ভিড় করছে।
হাসপাতালে শীতজনিত রোগের তেমন কোন ওষুধ নেই। একই সাথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তারসহ অন্যান্য পদের কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। ডাক্তার ও ওষুধ স্বল্পতার কারণে দরিদ্র-অসহায় রোগীরা সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দরিদ্র রোগীদের জন্য শীতজনিত রোগের ওষুধ সরবরাহ করা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছেন ভোক্তভুগীরা।
প্রকাশ থাকে যে, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের দেখা মিলেছে দেরিতে। কিন্তু বর্তমানে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। দিন দিন শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। অসহায় দরিদ্র ছিন্নমূল, ক্ষেত মজুর-দিনমজুর, গারো আদিবাসী কোচ, হাজং, হদি ও সাওতালসহ রয়েছে সহস্রাধিক বেদে পরিবার। ঝিনাইগাতী উপজেলার ডেফলাই গ্রামের বহু দরিদ্র বেদে পরিবাররা শীতবস্ত্রের অভাবে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা ও উপজেলার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা সাথে কথা হলে জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের হৃতদরিদ্র, ছিন্নমূল, অসহায় পরিবারদের জন্য শীতবস্ত্র ও হাসপাতালে শীত জনিত রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা জরুরী দরকার বলে মনে করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান শামীম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শীতার্থদের জন্য সরকারী ভাবে এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সরকারীভাবে কোন শীতবস্ত্র পেলেই আমরা বিতরণ করব।


