জানুয়ারি পর্যন্ত পেছালো বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির মামলার শুনানি

জানুয়ারি পর্যন্ত পেছালো বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির মামলার শুনানি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে বাবরি মসজিদ গড়ে উঠেছিল। বলা হয়, ১৫২৮-২৯ সালে মোঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশ মেনে মীর বাকী এই মসজিদ গড়ে তোলেন পরে যার নামকরণ সম্রাট বাবরের নামে করা হয়। হিন্দুদের একাংশের মতে, এই জায়গাটি রামের জন্মভূমি। এবং যেখানে মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে আগে রাম মন্দির ছিল। তা ভেঙে মুসলমান শাসক বাবর মসজিদ বানান। এই নিয়ে গত কয়েক শতক ধরেই ধর্মীয় বিতর্ক চলছে, পরে যাতে রাজনৈতিক রঙ লেগেছে।

২৯ অক্টোবর সোমবার ভারতের প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ-রাম মন্দির মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী জানুয়ারিতেই ঠিক হবে কবে ওই ইস্যুতে শুনানি হবে।

২৯ অক্টোবর সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌল এবং বিচারপতি কে এম জোসেফের সমন্বিত বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হলে পরবর্তী শুনানি ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

২০১০ সালে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট বাবরী মসজিদ-রামজন্মভূমি সংক্রান্ত বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রামলালার মধ্যে ভাগ করতে বলেছিল। কিন্তু কোনো পক্ষেরই ওই রায় পছন্দ হয়নি। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। ২০১১ সালের ৯ মে সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে । পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর অযোধ্যা মামলার শুনানি শুরু হয় এবং সেটিকে জমি বিবাদ মামলা হিসেবে দেখা হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানায়।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ গত শনিবার কেরালায় বলেছেন, ‘আদালতের এমন নির্দেশই দেয়া উচিত, যা পালন করা সম্ভব। এমন কোনো নির্দেশ দেয়া উচিত নয়, যাতে মানুষের আস্থায় আঘাত লাগে।

অমিত শাহের ওই মন্তব্যের পরেই বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের আমলে বিচার বিভাগকে লাগাম পরানো যাবে না বলে বিজেপি চাপের কৌশল শুরু করেছে। এদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্বক্ষেত্রের সংগঠন সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিনহা বলেছেন, ‘সংসদে যাতে আইন পাশ করে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা সুনিশ্চিত হয় সেজন্য আগামী কালীপুজোর পরে গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল,কংগ্রেস ও বাম এমপি’দের কাছে গিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী এমপি বলেন, সংসদে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার রামমন্দির প্রতিষ্ঠায় বিল আনছে না কেন? ভোটের আগে ‘রাম নাম যপ’করার উদ্দেশ্যে গেরুয়া শিবির ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, পণ্য ও পরিসেবা কর (জিএসটি)ও ট্রিপল তালাকের মতো বিষয়ে বিল আনতে বিরোধীদের দরকার হয় না, তাহলে এখন কেন সহযোগিতার ছলনা করা হচ্ছে? অন্যদিকে, গতকাল (রোববার) আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার বলেছেন, যেভাবে কাবা, হরমন্দির সাহিব ও ভ্যাটিকান পরিবর্তন করা যায় না, সেভাবে রাম জন্মস্থানও পরিবর্তন করা যায় না। এটাই সত্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *