খালেদাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সাজানো এই রায় : মির্জা ফখরুল

খালেদাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সাজানো এই রায় : মির্জা ফখরুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দূরে রাখতেই সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ‘ফরমায়েসি’ আখ্যায়িত মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য এবং আসন্ন নির্বাচনের যাতে তিনি অংশ গ্রহণ করতে না পারেন- সে জন্যই তাকে এ ধরনের একটি সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া এই সাজা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার এ মামলার রায় আসার ঘণ্টাখানেক পর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দেন আদালত।

২৯ অক্টোবর সোমবার পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান এই রায় দিয়েছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্নান এবং বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মনিরুল ইসলামকেও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। হারিছ চৌধুরী পলাতক থাকলেও কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি জিয়াউল ও মনিরুলকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর আদালত রায় ঘোষণার এই তারিখ নির্ধারণ করেন। আজ রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসাধীন থাকার কারণে খালেদা জিয়াও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করছি, এই রায় কোনোমতেই ন্যায়বিচার নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রায় ঘোষণার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় একটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে- এটা আইনবিরোধী। আইনে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, পুলিশ কাস্টডিতে আছেন, তাকে উপস্থিত করেই রায় দিতে হবে। তা না করে তার অনুপস্থিতিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। এই সাজানো মামলার বিচারকাজও একতরফাভাবে চলেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার পরে আদালতে আসতে পারছিলেন না। এরপরে তার বিচারের জন্য আদালত স্থানান্তর করা হয় কারাগারে। সেখানে বিচারকাজ শুরু করা হয়। এটাও অবৈধ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, মুনির হোসেন, শাহিন শওকত, আবদুল আউয়াল মিন্টু।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *