জিকির নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি কাম্য নয়
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : জিকরে জলী( জোরে জিকির) আর জিকরে খফী( আস্তে জিকির) এর ঠেলাঠেলী বহুদিন থেকে। কেউ জিকরে জলীকে সাপোর্ট করেন, আর কেউ জিকরে খফীকে সাপোর্ট করেন। তবে কোন আলেম কিন্তু কোন জিকিরকে নাজায়েজ বলেন নি। বা কোন জিকির কে বেদআত বলেন নি।
উভয় জিকির জায়েজ আছে। কেননা উভয় পক্ষের মজবুত দলীল রয়েছে। এজন্য যার যে জিকির ভাল লাগে, সে সেটা করতে পারবে। কোন জিকির নিষেধ নেই।
আর এভাবেই চলে আসছে আমাদের আলেম সমাজ, আমাদের হক্কানী পীর মাশায়েখ গণ। কোনদিন এসব নিয়ে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কথা বলেন নি। বিশেষ করে আলেম সমাজের কেউ জিকির জোরে না আস্তে, এটা নিয়ে ঠেলাঠেলি করে না।
একমাত্র লা মাজহাবী ও মওদুদী সাহেবের অনুসারী ছাড়া আর কেউ জিকির নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করেনা।
সম্প্রতি একটা ওয়াজ ভাইরাল হচ্ছে খুব। আমি ওনাকে অবশ্য চিনিনা। কোনদিন নাম ও শুনিনি। ঐ বক্তা নাকি আমাদের দেশের খ্যাতিমান ওয়ায়েজ, আল্লামা ওলীপুরী সাহেবের সন্তান। নাম তার কামরুল ইসলাম ওলীপুরী।
ইবনে ওলীপিুরী জোরে জিকির করা, এবং সে প্রসঙ্গে ঘাড় নেড়ে জিকির ইত্যাদী বিষয়কে তিনি বেদআত বলে আখ্যা দিয়েছেন। এবিষয়ে দলীল ও পেশ করেছেন।
আমি অবশ্য ওলীপুরী সাহেবের ছেলেকে খাঁটো করতে চাই না। তার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা রেখেই কথা বলতে চাই।
প্রথমত আপনি যে আস্তে জিকিরের পক্ষে দলীল দিয়ে পাশ কেটে চলে গেলেন, জোরে জিকিরের তো দলীল রয়েছে। তাহলে এ সব দলীল গুলোর ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? আপনার উচিত ছিল, জোরে জিকিরের দলীল গুলোর উপরে কথা বলা। জোরের জিকিরের দলীলের উপর জওয়াব দেওয়া। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে সরাসরি বেদআত আখ্যা দেওয়াটা সমীচিন নয়।
কেননা কোন আলেম কিন্তু জিকরে জলীকে নাজায়েজ বা বেদআত বলেন নি।
কিন্তু দুঃখ হয় আপনাদের মত তরুন আলেমদের নিয়ে। অন্তত চিন্তা করে কথা বলা উচিত এ সব বিষয় নিয়ে। সারাদেশের সিনিয়র কোন আলেম কিন্তু এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন নি। কোন নাজায়েজের ফতোয়া আসেনি।
আল্লাহ ক্ষমা করুন, আপনি হঠাৎ এসব আলোচনা টেনে আনলেন। যে সব বিষয় গুলো আলেম সমাজের সমর্থন রয়েছে। সে গুলো নাজায়েজ বলা খুবই দুঃখজনক।
আমাদের দেশে অনেক কিছু হচ্ছে, অনেক নাজায়েজ কাজ জায়েজ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেব বিষয় নিয়ে আপনার কোন বক্তব্য নেই। কোন মাথা ব্যাথাও নেই।
একটা খানকা, একটা সংগঠন, যেটা বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। মাদারে ইলমী দারুল উলুম দেওবন্দ এর সাথে রয়েছে তাদের হট লাইন। সব সময় চরমোনাই এর খানকাতে দেওবন্দের আলেমদের উপস্হিতি দেখা যায়।
আর উলামায়ে দেওবন্দ চরমোনাই কে বেদআত বলেন নি। চরমোনাই এর জিকিরের তরীকাকে নাজায়েজ বলেনি দেওবন্দের কোন আলেম।
শুধু মাত্র আপনার মত একজন উঠতি বয়সী আলেম থেকে শুনলাম এধরনের বক্তব্য। আর শোনা যায় মওদুদী বাদী গ্রপ থেকে এবং লা মাজহাবীর থেকে।
তাহলে আপনার মতলব? আপনার এজাতীয় আলোচনা টেনে আনার উদ্দেশ্য? এ সব আলোচনা করে ফেৎনা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এসব ওয়াজ হবে আলেমদের মাঝে সম্প্রীতি নষ্ট করা।
এজন্য ভাই, কাঁদাছোড়াছুঁড়ি কাম্য নয়। আলেম সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হোক আমরা চাই না। এজাতীয় বয়ান বক্তব্য পরিহার করলে ভাল হয়। যে ওয়াজে সমাজে ফেৎনা হবে, সেটা না করাটাই শ্রেয়।
আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক


