পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজের যথেষ্ট মজুত নেই। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রথম ডোজ নেয়া ব্যক্তিদের কোনভাবে জানায়নি। তাই অনেকে টিকা কেন্দ্র থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন।
জানা যায়, ঢাকা মহানগরীতে ৪৭টি কেন্দ্রে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হচ্ছিল। বর্তমানে ২৫টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ সেভাবে বিষয়টা জানে না যে, আসলে কোন কেন্দ্রে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে এবং কোন কেন্দ্রে দেওয়া হচ্ছে না।
অপরদিকে, দেশের ৩৯টি জেলাতেও শেষ হয়ে গেছে টিকার মজুত। ওই সব জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালে টিকা শেষে হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অনেক মানুষ জানে না। এ কারণে যাদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল, তারা কেন্দ্রে টিকা না পেয়ে ঘুরে আসছেন।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুই জন কর্মকর্তা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউটে যান। তবে সেখানে গিয়ে তারা কাগজে লেখা দেখতে পান যে, ‘সরবরাহ না থাকায় করোনার টিকা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’।
সেখানে অন্য একটি কাগজে লেখা ছিল- ‘করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আসার সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে’। জানা যায়, ওই দুই কর্মকর্তা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন গত ৫ এপ্রিল।
বিষয়টি সম্পর্কে কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক জানান, অনেকে মোবাইলে এসএমএস না পেয়ে টিকা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। আবার অনেকে এ রকমও আছেন যে, নির্ধারিত দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর টিকা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। ফলে তাদের ফিরে আসতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য যারা অপেক্ষায় আছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের বার্তা পাঠিয়ে টিকা কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলা হলেই এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তাছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে তার প্রচারও চালাতে পারে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদের সঙ্গে। তার মতে, যেহেতু মজুত নেই সেহেতু দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা পাঠানো উচিত। সরকার যে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সেটা মানুষকে জানানো উচিত। এতে মানুষ ভরসা পাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। এর মধ্যে ৪২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৮ জন পেয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ। অর্থাৎ টিকার মজুত শেষ হওয়া তথা ভারত সরকারের টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কোনো চালান না আসায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্ভব হয়নি।


