ড. কামাল হোসেনের বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার

ড. কামাল হোসেনের বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁর বেইলি রোডের বাসায় সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। নির্বাচন সামনে রেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

১৯ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ড. কামালের রাজধানীর বাসায় যান অ্যালিসন ব্লেইক। সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তিনি বেরিয়ে যান। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘তারা মাঝেমধ্যে দেখা করতে আসেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন আমরা কীভাবে দেখছি এবং কী ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে, হাইকমিশনার তা জানতে চেয়েছেন।’

জবাবে আমরা বলেছি, ‘আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এখনো আমরা একই দাবিতে অনঢ়। আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইছি। সেই লক্ষ্যে সাত দফা দাবিও দিয়েছি।’

ড. কামাল আরও বলেন, সরকার নিজেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। তাই সরকার তো রেফারির ভূমিকায় থাকতে পারে না। খেলোয়াড় তো রেফারি হতে পারেন না। নিরপেক্ষ সরকার তাই জরুরি। নিরপেক্ষতা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। সাত দফার কথাগুলো একসময় শেখ হাসিনা নিজেই দাবি করেছেন।

ড.কামাল জানান, ২০১৪-এর নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এখনো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার খুব একটা আগ্রহী বলে বিশ্বাস করা যায় না। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই সাত দফা দাবি নিয়ে তাঁরা সোচ্চার আছেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকার মানেই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী যদি রেফারির ভূমিকা পালন করে, পুলিশ ও প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না থাকে তাহলে তো ফেয়ার ইলেকশন হয় না। আমরা এটাই বলেছি।’

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইইউভুক্ত দেশগুলোসহ ২০ থেকে ২৫টি দেশের কূটনীতিক ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সেদিন জোটের সাত দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের ভাবনার বিষয়টি কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *