তাণ্ডব তিতলির, আগুন মাছ বাজারে

তাণ্ডব তিতলির, আগুন মাছ বাজারে

পাথেয় ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় তিতলির আগমন ঘটেছিল সত্য। সাগর হয়েছিল উত্তাল, তেজদীপ্ত। ঘর ছাড়া লক্ষ লক্ষ মানুষ। আল্লাহর অশেষ মহিমায় বেঁচে গেছে বাংলাদেশের মানুষ। ভারতের উড়িষ্যা, কলকাতাসহ বিভিন্ন বেশ কিছু মানুষ হতাহত হলেও এ দেশের মানুষের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। মহান আল্লাহর অশেষ দয়া ছাড়া এটি আর কিছু নয়।
ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে আগুন লেগেছে কলকাতা মাছের বাজারে। নদীমাতৃক এ দেশে জেলেরা মাছ মারতে যেমন পারেনি। তেমনি নদীপথ ছিল কোথাও বন্ধ, আবার কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারণে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা ফেরি বা যানবাহনের অভাবে জায়গা মতো পৌঁছাতেও সক্ষম হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কারণেই বাজারে মাছের দেখা মিলছে না। যা আছে তা খুবই উঁচু মূল্যে বিকি হচ্ছে। মাছের বাজারে ফরমালিন ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে বলে খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে। জানা গেছে, মাছ টাটকা রাখতে ফরমালিন ব্যবহার হচ্ছে, বিভিন্ন মহলে এ অভিযোগ ওঠার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের মাছ কলকাতাসহ আশপাশের রাজ্যে কিছুটা কম আসছিল।

এর মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে তিতলির দাপটে অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা থেকে মাছ আসা প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে।

এ কারণে কেজিপ্রতি মাছের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০-৮০ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই রুই, কাতলা মাছ ২২০-২৫০ টাকা কেজি। কিন্তু তিতলির কারণে দাম কেজি প্রতি ৩০০-৩২০ টাকা হয়েছে।

কলকাতা তথা রাজ্যের অন্যতম বড় মাছের পাইকারি বাজার, পাতিপুকুরে সাধারণত গড়ে প্রতিদিন ১০-১২ ট্রাক অন্ধ্রপ্রদেশের মাছ আসে।

গত দুদিনে সবোর্চ্চ ২-৪ ট্রাক মাছ বাজারে এসেছে। যে কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিক ভারতের উড়িষ্যার গজপতি জেলায় ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ত্রাণ কমিশনার বি পি শেঠি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির কারণে কয়েকজন গ্রামবাসী পাশের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই গুহা ঝড়বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন এখনো চারজন।

বি পি শেঠি জানান, যে জায়গায় এই ভূমিধসটি ঘটেছে তা একেবারে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভেতর অবস্থিত। ঝড়ের কারণে বড় বড় গাছ পড়ে রাস্তা আটকে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছানোও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। তাণ্ডব চালিয়েছে এ দুই রাজ্যজুড়ে। এতে নিহত হয়েছে অন্তত ৮ জন।

বৃহস্পতিবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরাম জেলায় এবং উড়িষ্যার গোপালপুরে ঘূর্ণিঝড় তিতলি আঘাত হানলে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ঝড়টি ক্রমেই বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা।

উড়িষ্যার গ্যাঞ্জাম, গজপতি, ক্ষুরদা, জগত্সিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক ও বালাসোর জেলায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি।

এসব জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড়ের আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদু্যত্ সরবরাহ বন্ধ ও টেলিফোন সংযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও এসেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *