পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘূর্ণিঝড় তিতলির তীব্রতা কমে গেলেও প্রভাব কমেনি এখনো। ভারতীয় উপকূল অতিক্রম করার আগে বুধবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিতলির প্রভাবে কক্সবাজারে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। ভারি বর্ষণ ও বাতাসে ঝুপড়ি ঘর এবং নড়বড়ে ঘর পড়ে যাওয়া ও রাস্তায় কাদার সৃষ্টি হওয়ায় এ দুর্ভোগে দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ দেখা দিলেও দুই উপজেলার ৩০টি ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
প্রশাসনের সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির সম্মুখীন হয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। শনিবার কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সংকেত কেটে গেলেও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাব রয়ে গেছে। ফলে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লেদা ক্যাম্পের পাহাড়ি অংশে অবস্থান নেয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর মংনিপাড়া থেকে আসা নুর জাহান বেগম জানান, পাঁচ শিশু নিয়েই তার পরিবার। ভারি বর্ষণের কারণে ভোগান্তির পাশাপাশি প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে। একটু জোরে বাতাস হলেই নড়বড় করে ঝুপড়ি ঘরটি। পাহাড়ের উঁচুতে নেমে আসা পানি আটকানো গেলেও চারপাশের ভেজা ভাব ঘরের ভেতর স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা তৈরি করেছে। ফলে রাতে ঠিক মতো শোয়া যায় না। তাই বসে থেকে সময় কাটাতে হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া, টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা এবং টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়াসহ পাহাড়ের পাদদেশে অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের মংনিপাড়া থেকে আসা রমিদা বেগম জানান, তার পরিবারে চার শিশু। বৃষ্টি বাড়লে কষ্ট বাড়ে, সঙ্গে বাড়ে প্রাণহানির শঙ্কাও, বাতাসে নড়াচড়া করে ঝুপড়ি ঘর। বৃষ্টিতে পানি আটকানো যায় না, ওপর থেকে নিচের দিকে পানি নামলে ঘর স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তাই রাতে না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়।
কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি মোহাম্মদ ফয়েজু বলেন, ‘সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির হচ্ছে কুতুপালং। এ শিবিরে অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে রোহিঙ্গাদের কষ্টের শেষ নেই।’
টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, ‘বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গা শিবিরের দুর্ভোগ বেড়ে যায়, এইসব শিবিরের ঝুপড়ি ঘরগুলো খুবই দুর্বল। ফলে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। তাছাড়া শিবিরের রাস্তাগুলো মাটির হওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হয়।’
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নির্যাতনের ফলে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে সাড়ে ১১ লাখের মতো রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উখিয়া-টেকনাফের দুই পাশে পাহাড় ও বন কেটে বসতি গড়েছে রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া, টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা ও টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে অনেক রোহিঙ্গা এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। ফলে বৃষ্টি হলে উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটে তাদের।


