দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উচ্চ গতিসম্পন্ন ট্রেন চালু হলে ৫০ হাজারেরও অধিক যাত্রী মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলাচল করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে উচ্চগতির ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রেন সেবা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই রুট দিয়ে যাত্রীরা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা পরপর ট্রেনসেবা নিতে পারবে। ৫০০ টাকা খরচে উচ্চগতির ট্রেনে যাত্রীরা মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অথবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে পারবে।

এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, ট্রেনগুলো ইউরোপ, চীন, জাপান ও কোরিয়াতে পরিচালিত ট্রেনের মতো হবে। উচ্চগতির ট্রেনের আট জোড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে শাটল করবে, প্রতিটি ট্রেনের সামনে ও পেছনে ১০টি কোচ এবং দুটি ইঞ্জিন থাকবে। প্রত্যেক ট্রেনে ৮০০ যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকবে। প্রতিদিন এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ৩২ বারের মতো যাতায়াত করতে পারবে।’

বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আট জোড়া ট্রেন চলাচল করছে, যা প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার যাত্রী বহন করে। গন্তব্যে পৌঁছাতে ট্রেনগুলোর সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, রেলপথ দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার। তবে নতুন রেললাইন নির্মাণের পর এটি ২৩০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। যাত্রার সময় দেড় ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা হবে, উচ্চগতির ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র মতে, পুরো প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি দাতাদের সহায়তায় প্রকল্পটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে। ঢাকা-কুমিল্লা, লাকসাম-চট্টগ্রাম রুটে পৃথক রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যা ফেনীর ওপর দিয়ে নির্মিত হবে এবং চট্টগ্রামে বিদ্যমান স্টেশনের পাশে নবনির্মিত রেল স্টেশনে গিয়ে শেষ হবে।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, নতুন উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেনগুলো ঢাকা-কুমিল্লা রুটের ৬০ হাজার, কুমিল্লা-ফেনী রুটের ৪০ হাজার এবং ফেনী-চট্টগ্রাম রুটের ৫০ হাজার যাত্রীর চাহিদা মেটাতে পারবে।

প্রকল্পসংক্রান্ত সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন এবং বিস্তারিত নকশার জন্য গত ৩১ মে তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ-চীন কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ছিল চীন রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন (সিআরডিসি), চীন ও মজুমদার এন্টারপ্রাইজ (এমই), বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম (সিআরডিসি-এমই কনসোর্টিয়াম)।

রেলমন্ত্রী জানান, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্য গবেষণার কাজ শেষ করা হবে।

রেল সূত্র জানায়, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত নকশা পরিকল্পনা সম্পন্ন হলে সরকার ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন করবে এবং এই প্রকল্পটির অর্থায়নের জন্য দাতা খুঁজবে। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদারদের জন্য সংশ্লিষ্ট দরপত্র চালু করা হবে। এ ছাড়া নতুন রেললাইন এবং স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হবে, যা ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হবে। পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *