দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

পাথেয় রিপোর্ট : হজ নিয়ে উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। এবার তিনি দুদকের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে গেলেন। বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র রায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, টেন্ডার ছাড়াই সরকারি জমির বিক্রির অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল দুদক। পরে মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটিতে জামিন নিতে বগুড়ার আদালতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন বিচারক।

আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সাংসদ ও সাবেক পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে গিয়ে দলীয় এক সভায় হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তার বক্তব্য বাংলাদেশে গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে প্রথমে মন্ত্রিসভা এবং পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া বক্তব্য প্রকাশের পর ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দেশের ১৮টি জেলায় তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণের পর কারাগারে যান লতিফ সিদ্দিকী। এরপর জামিনে কারামুক্ত হন তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে অনেক তোড়জোড় চালালেও তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীও হন। ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে একটি সভায় পবিত্র হজব্রত নিয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন। ইসলামের আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়েও তিনি কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। আরাফার ময়দানের বিরোধিতা করেন। বাংলাদেশের অর্থ নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরই একে কেন্দ্র করে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতে আসনটি শূন্য হওয়ার পর ২০১৭ সালের জানুয়ারির উপনির্বাচনে হাসান ইমাম খান সাংসদ নির্বাচিত হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *