দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ ইবাদত

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ ইবাদত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইবাদত আসলে কী? মঙ্গলকামনাই বড় ইবাদত। দুর্যোগে সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বড় ইবাদত হিসেবে আমরা জানি। ভারতের ওড়িশায় আঘাত হেনে ক্লান্ত হয়ে দুর্বল হয়েছে কিছুটা ফণী। শনিবারের শুরু অংশে অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতের মধ্যভাগে বাংলাদেশ অতিক্রম করবে ফণী। সচেতনতার দারুণ অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। এরপরও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ এক সপ্তাহ আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া সেই ফণী কতটা হামলে পড়ে মানুষের উপর তা সময়ের ব্যাপার। এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তবে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিকল্প নেই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়, লোকালয়ে বিপুল ধ্বংস ঘটানোর শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। গতি ধীর হলেও যতই সময় যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি ততই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ফণীর আঘাত বেশ মারাত্মক হতে পারে। ডুবে যেতে পারে নিম্নাঞ্চল। শুক্রবার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ৪৩ বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার বাতাসের শক্তি আর হাজার কিলোমিটার ব্যাসের বিস্তার নিয়ে ধেয়ে আসা এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পাঁচ থেকে ছয় ফুটের জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। আবার গতিপথ বদলে সমুদ্রের কোলঘেঁষে সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানলে এ ঝড় খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সেনাক্যাম্পগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। উপকূলীয় জেলার জেলা প্রশাসকদের ২০০ মেট্রিক টন চাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য পাঁচ লাখ করে টাকাও দেওয়া আছে। এ ছাড়া ৪১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে এসব উপকূলীয় জেলায়।

ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় শনিবার সব বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার পাশাপাশি সাগরতীরের লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিংও করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার শঙ্কায় সারা দেশে সব ধররের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবেলায় বিআইডাব্লিউটিএর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের কোনো প্রভাব দেখা না গেলেও শুক্রবার সকাল থেকে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব খুলনা অঞ্চলে দেখা যেতে পারে। সরকার ও আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা মেনে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ আগে থেকেই নিরাপদ অবস্থান বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেলে প্রাণহানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এবারের এ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সব দুর্যোগেই এ ধরনের আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে আমরা আশাবাদি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *