ঐতিহ্য । ওয়ালীউল্লাহ মাসুদ
দেওবন্দ আন্দোলন ও দেওবন্দিয়্যাত
দ্বিতীয় কিস্তি ●
১৮৫৭ সালের আলেম জনতার স্বাধীনতার আন্দোলন আপাতত ব্যর্থতার পর বৃটিশ সামাজ্যবাদীরা তাদের কর্তৃত্ব উপমহাদেশের ওপর আরো সুসংহত করে। নেতৃত্বদানকারী মুসলিম সমাজের ওপর নেমে আসে অকল্পনীয় নির্যাতন ও নিপীড়ন, মুসলিম বসতি গ্রামকে গ্রাম উজাড় করে দেয়। হাজারো মানুষ নির্বাসিত হয় আন্দামানের বন্দীশালায়। নিঃসহ অত্যাচারের সম্মুখীন হয় সেখানে। চট্টগ্রাম থেকে খাইবার পর্যন্ত গ্রান্ড ট্র্যাংক রোডের দু’পাশে একটি গাছের ডালও এমন ছিল না যে তার মাঝে ঝুলছিল না কোন না কোন মুসলিম শহীদের লাশ। প্রচলিত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিষ্প্রভ ও নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে, যারপরনাই হতাশায় মুহ্যমান হয়ে পড়ে ইসলামপ্রিয় জনতা, চারদিকে দুর্দিনের অমানিশার অন্ধকার, অন্যদিকে মুসলিম জাতি-যারা হার না মানা চরম আত্মমর্যাদাশীল অমিততেজ। যারা শহীদ হওয়ার মাঝেই গৌরব খোঁজে পায়। পরাধীনতাকে মেনে নিতে জানে না।
তাদেরকে ইংরেজ তোষণনীতি এবং আপোষকামিতার সবক পড়াচ্ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমেদের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলনের নামে। এই দুর্যোগময় মুহূর্তে এগিয়ে এলেন ওয়ালীউল্লাহী চেতনায় বলীয়ান, মানবকল্যাণ কামিতায় উদ্ভাসিত,নববী দর্শনে গড়া স্বজাতিত্ব বোধে প্রাণিত, ইমানী নূরে উজ্জল, প্রোজ্জ্বল, কাসিমুল উলূম ওয়াল খাইরাত, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত কাসেম নানতুবী (জন্ম-১৮৩২, মৃত-১৮৮০) ও ইমামে রব্বানী ফকীহুন্নাফস হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী (১৮২৯-১৯০৫) এবং তাদের সহযোদ্ধারা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন দারুল উলূম দেওবন্দের।
এ প্রসঙ্গে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ লিখেন-পৃথিবীর সমস্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ সমূহের পূর্বাপর পর্যালোচনা করে নববী তালিম ও শিক্ষার আলোকে ইসলামী পুনর্জাগরণ ও সংস্কারের সার্বিক ও কার্যকর কর্মসূচী গ্রহণ করলেন। এরই প্রেক্ষিতে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো অবিস্মরণীয় এক ইলহামী প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ। দারুল উলূম দেওবন্দ কেবল একটা প্রতিষ্ঠান নয়, কুরআন হাদীসের নিরিখে নববী আলোয় গড়া ইসলামী মত ও পথের একটা মানবতাবাদী বিপ্লবী বিশ্বকেন্দ্র। মুক্তিকামী মানুষের, মুসলিম উম্মাহর প্রয়োজনে এমন কোন ডাক নেই, এমন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে নেতৃত্বের উজ্জ্বল সাক্ষর রাখেনি এই দারুল উলূম দেওবন্দ। কি আকায়েদ, কি আখলাক ও নৈতিকতা, কি তাসাউফ ও রূহানিয়্যাতে, কি জিহাদ ও রাজনীতিতে, কি বাতিল বিরোধী সংগ্রাম ও আহবে। কি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে, কি অর্থনৈতিক, কি দাওয়াত ও ইরশাদে, কি দরছে কুরআন ও হাদীসে, কি ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টিতে, কি নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে, কি কুরআন ও হাদীসের আলোয় সমাজ বিনির্মাণ ও পুনর্গঠনে। কি সংস্কার আন্দোলনে, মোটকথা মানব কল্যাণকামিতার ও উসওয়ায়ে নবুয়্যাতের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে দারুল উলূম দেওবন্দের সন্তানদের নেতৃস্থানীয় সরব উপস্থিতি ও অবদান নেই। আজ পৃথিবীব্যাপী যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের মানুষের সচেতনতা ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি আগ্রহ ও চেতনা সৃষ্টি, ইসলামী আদর্শের বিজয় উম্মুখ পরিস্থিতি উদ্ভবে মৌলিকভাবে দারুল উলূম দেওবন্দের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর কেউ তা অস্বীকার করলে আঁধারচারী পেঁচকের সূর্য রশ্মিকে অস্বীকার করার মতোই অবান্তর বলে গণ্য হবে।
ব্যক্তির মেধা-মনন, মানসিকতা, রুচী ও প্রকৃতি যেমন তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রভাবান্বিত করতে পারে, অনুরূপভাবে প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তা-চেতনা, মনন, রুচী ও প্রকৃতির প্রভাব পড়ে প্রতিষ্ঠানের সব ক্ষেত্রে। দারুল উলুম দেওবন্দ বলতে একটি মাদ্রাসাকেই বুঝায় না বরং দারুল উলূম হল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এক গতিশীল আন্দোলন, যা মাআনা আলাইহি ওয়া আসহাবিহি তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এই চিন্তা-চেতনা ও মননের নাম-ই দেওবন্দিয়্যাত। দারুল উলূূম দেওবন্দ এত ব্যাপক অবদান রাখার পেছনে দেওবন্দিয়্যাত তথা প্রাতিষ্ঠানিক মেধা-মনন, মিজাজ ও প্রকৃতিই হল মূল নিয়ামক শক্তি।
দেওবন্দিয়্যাতের মিযায ও প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য দু’টি।
১। সামগ্রিকতা ২। ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা অবলম্বন।
সামগ্রিকতা বলতে দ্বীনের জ্ঞানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার পক্ষদুষ্ট না হয়ে সামগ্রিকভাবে দ্বীনের জ্ঞান তথা ইলম অর্জনকে বুঝায়।
২। ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা অবলম্বন-আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উম্মতে মুহাম্মদীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, হে নবী! আমি আপনার উম্মতকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী বানিয়েছি। অর্থ্যাৎ দ্বীনের ব্যাপারে উপলব্ধি, অনূভূতি, দৃষ্টিভঙ্গিগ্রহণ ও মতামত পোষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রান্তিকতা ও বাড়াবাড়ির শিকার না হয়ে নির্ধারিত সীমারেখার যথাযথ সংরক্ষণ করে চলা, নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে না যাওয়া, দ্বীনকে আবেগ বা জজবার অধীন না করে আবেগ বা জজবাকে দ্বীনের অধীন করে চলা।
বর্তমান সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের অভাব প্রকট। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে মনে হয় যেন ইসলামের প্রথম শতাব্দীর দলছুট এক বিভ্রান্ত দল খারেজীদের হাওয়া লেগেছে আমাদের দেশেও, দ্বীনের ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থার নীতিকে বিসর্জন দিয়ে চলছে আলেম সমাজ, প্রান্তিকতায় ভরে গেছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কথায় কথায় কুফর এবং নাস্তিক বলে ফতওয়া এটে দেওয়া। কেউ ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলে তাকে গালিগালাজ করা কেমন যেন অতিসহজ হয়ে গেছে।
যা হোক উপরোল্লিখিত দুটি গুণ কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সার্বজনীনতা ও পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করে থাকে। দারুল উলূম দেওবন্দের মিযায, মনন ও প্রকৃতির মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য দুটি বিদ্যমান থাকায় দেওবন্দ আন্দোলনের কৃতিত্ব আজ দ্বীনের প্রতিটি শাখায় বিদ্যমান।
দারুল উলূম দেওবন্দের এই মিযায, মনন ও প্রকৃতি দুটি উপকরণ হতে সংগৃহীত। একটি হল ইলমী তথা জ্ঞানকেন্দ্রিক। অপরটি হল আখলাকের বা চারিত্রিক উৎকর্ষ। ইলমী পরস্পর সূত্রটি হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী থেকে সংগৃহীত। আর আখলাক তথা চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের উপকরণটি যুক্ত হয়েছে হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ ও হযরত শাহ আব্দুর রহীম রহ., সায়্যিদুত তায়িফা হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহ.-এর সূত্র থেকে। উপকরণ দুটি স্ব-স্বস্থানে পরিপূর্ণ। প্রত্যেকটিই সামগ্রিকতা ও ভারসাম্যপূর্ণ গুণের দ্বারা বিশেষিত। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী’র যুগে পুরো বিশ্বে তত্ত্ব জ্ঞানের কোন অভাব ছিল না। কিন্তু সুন্দর সমন্বয়ের অভাবে হাদীস, ফিকহ, তর্কশাস্ত্র প্রভৃতি শাস্ত্রবিদদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ক্ষেত্র বিশেষ বৈরিতায় রূপ নিয়েছিল। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ. মধ্যপন্থা অবলম্বন ও সামগ্রিকতার নীতি অবলম্বনপূর্বক সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নেন। আর এর পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে দারুল উলূম দেওবন্দের মাধ্যমে।
দারুল উলূম দেওবন্দের অপর উপরকরণটি হল আখলাকে হাসানা’র উপকরণ। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি গঠনের জন্য সুলুক ও তরীকতের সিলসিলাকে বেছে নেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- মানুষের মাঝে একটি মাংসপিণ্ড আছে যদি এটা সুস্থ থাকে তাহলে মানবদেহ সুস্থ আর যদি এটা অসুস্থ হয়ে যায়, তাহলে মানবদেহও অসুস্থ হয়ে যায়, আর এই মাংসপিণ্ড হল ক্বলব। তরীকত ও সুলুক ছাড়া কলবের পরিপূর্ণ সুস্থতা আসে না। তাই দারুল উলূমের আকাবিরগণ উপমহাদেশে প্রচলিত সুলুক ও তরিকতের প্রচলিত চারটি সিলসিলা থেকে ইযাযতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের আখলাকী উপকরণটি পূর্ণতার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
সুলুক ও তরীকতের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অন্যত্র আলোচনা হবে ইনশাল্লাহ। সুতরাং দেওবন্দিয়্যাতের অন্যতম উপকরণ হল শরীয়তের সঙ্গে তরীকতের তালীম।
ইশকে এলাহীর দাহন যন্ত্রণার সঙ্গে ইত্তেবায়ে সুন্নাত বা সুন্নাতে রাসূলের পরিপূর্ণ অনুকরণ ও পালন। এসব ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দ কিছু উসূল বা মূলনীতি নির্ধারণ করেছে।
০১। শরীয়তের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন : আকাবিরদের সোহবাত ও ব্যাখ্যার আলোকে আকীদা, আমলসহ মানবজীবনের সকল বিষয়ে শরীয়তের এমন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করা যা জাহির-বাতিন, ইলম-আমল, উপলব্ধি, অনুভূতি, রুচী প্রকৃতি সব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরম্পরা সূত্রে রাসূলে কারীম পর্যন্ত সনদ যুক্ত হতে হবে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা ও বিশ্বাসের বাইরে কোন আকীদা ও বিশ্বাস ধারণ করা যাবে না।
০২। তাসাউফ ও তরীকতের অনুসরণ : আউলিয়ায়ে কেরাম ও বুযুর্গদের নির্ভরযোগ্য সিলসিলা ও পদ্ধতি অনুসারে আত্মসংশোধন ও চরিত্র গঠনে পরিপূর্ণতা অর্জন করা।
০৩। ইত্তেবায় সুন্নাত : জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুন্নাতে নব্বীর পূর্ণ অনুসরণ করা এবং নিজের সকল কাজে ও কথায় তথা সকল ক্ষেত্রে শরীয়তের নীতিমালা অক্ষুন্ন রাখা এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতকে প্রাধান্য দেয়া।
০৪। হানাফি উসূল ও মূলনীতির প্রাধান্য দান : আইম্মায়ে মুজতাহিদিনের সকলেই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বলে বিশ্বাস করে নিজের আমল ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাবকে প্রাধান্য দেয়া।
০৫। আশ্আরী ও মাতুরিদী দর্শনের অনুসরণ করা : ধর্মীয় বিশ্বাসগত ব্যাপারে ঈমানের আনুষাঙ্গিক বিশ্বাসগুলোর ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা’ত তথা আশ্আরী ও মাতুরিদী দর্শন অনুসরণ করা।
০৬। ভ্রষ্টতা ও গোমরাহী প্রতিরোধ : ধর্মীয় উগ্র ও বিকারগ্রস্থ লোকদের সৃষ্ট ফিতনা ফ্যাসাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গঠন করা যেন সাধারণ মুসলমানের মনে সহজেই তাদের বিভ্রান্তিগুলো অনুমেয় হয়ে ওঠে। আমাদের বর্তমান সমাজে এই ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিকারগ্রস্ত লোকজন তাদের উগ্রবাদকে ইসলাম বলে চালিয়ে দিচ্ছে। উঠতি তরুণরা তা গোগ্রাসে গিলছে। আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের এটিও একটি কারণ। যদিও আলেম ওলামা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিবাদ অনেকটাই নির্মূল হয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদের ব্যাখ্যাদাতা বিকারগ্রস্তদের আস্ফালন এখনও চোখে পড়ার মত বিচরণ করছে সমাজে।
আজকাল আমরা যারা দেওবন্দী বলে দাবি করছি, আমাদের মধ্যে অনেকেই খারেজী মতবাদের উগ্রতায় মত্ত, অপরদিকে দ্বীনকে আকাবিরদের ব্যাখার আলোকে বুঝতে চেষ্টা না করে উগ্রবাদীদের ব্যাখা সমাজে তুলে ধরেছে। এরা যদিও দেওবন্দী সিলেবাস বা কারিকুলামের কিছু কিতাব অধ্যয়ন করেছে। কিন্তু আকাবিরদের ব্যাখ্যার আলোকে দ্বীন বুঝতে চেষ্টা না করার কারণে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কখনো কখনো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বাইরে বোধ ও বিশ্বাস ধারণ করে তারা কখনোই দেওবন্দী হতে পারে না।কারণ, কিছু কিতাব অধ্যয়নের নাম দেওবন্দী নয়। হ্যা! চিন্তার বৈচিত্র্য থাকতে পারে, তবে এই বৈচিত্র্য কখনোই দেওবন্দের ঐ সাতটি মূলনীতির বাইরে যেতে পারবে না।
০৭। কাসেমী দর্শন ও রশীদি কর্মপন্থা অবলম্বন : ওপরে উল্লেখিত ৬টি ধারা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত কাসেম নানুতবী রহ. এবং ইমামে রব্বানী ফকিহুন নাফস্ হযরত রশীদ আহমেদ গাঙ্গুহী রহ. -এর দর্শন ও কর্মপন্থা অবলম্বন।
সমাজ আজ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। ধর্মের সঙ্গে অধর্মের সংঘাত চিরকালের। একটু অবহেলা, একটু উদাসীনতার সুযোগে আঘাত করে বসে অধর্ম। নানা প্রকারের তাহরীফ-অপব্যাখা, শিরক, বিদআত, রুসুম রেওয়াজ, বস্তবাদী চিন্তা, বিলাসিতা প্রভৃতির পক্ষ থেকে আজো ইসলামের ওপর আসছে আক্রমণ। এই নাজুক মুুহূর্তে দেওবন্দিয়্যাতের মূল চেতনাকে বুকে ধারণ করে সমাজের জঞ্জালকে পরিষ্কার একটি কলুষমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ার নিমিত্তে এগিয়ে আসা আমাদের সকলের জন্য একান্ত কর্তব্য।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে হককে হক হিসাবে বোঝার, তা গ্রহণ করার, বাতিলকে বাতিল হিসেবে চিহ্নিত ও তা বর্জন করার তৌফিক দান করুন-আমিন।
লেখক : দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা


