পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কোনো ধরনের সতর্কসংকেত ছাড়াই নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভ। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এ ঘোষণা দিলেন তিনি। খবর বিবিসির।
সহিংস বিক্ষোভের মুখে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী আসকার মমিনের নেতৃত্বাধীন কাজাখ সরকার পদত্যাগ করেছে। কিন্তু সরকারের পতন ঘটলেও ভাটা পড়েনি আন্দোলনে। বিক্ষোভ চলছে সমানতালেই।
স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম। বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ২০ হাজার সন্ত্রাসী আলমাতিতে হামলা করেছে। তারা রাষ্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস করছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষিত ‘সন্ত্রাসী’দের দায়ী করেছেন কাসিম। তবে নিজের বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
কাজাখস্তানে গাড়িতে এলপিজির ব্যাপক ব্যবহার হয়। দেশটিতে গত শনিবার এলপিজির দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়। পরদিন রোববার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ মানজিস্তাউয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই বিক্ষোভ আলমাতিসহ দেশটির অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনী আলমাতি নগরীর রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও শুনতে পাওয়া গেছে গুলির শব্দ।
টিভি ভাষণে প্রেসিডেন্ট তোকায়েভ বলেছেন, “সন্ত্রাসীরা এখনও তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেনি। তারা অপরাধ করেই যাচ্ছে কিংবা এর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে এর ইতি টানতে হবে। যে আত্মসমর্পণ করবে না তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।”
কাজাখস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৬ ‘সশস্ত্র অপরাধী’ ও ১৮ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘অপরাধী ও হত্যাকারীদের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা করতে পারি আমরা?’


