পাথেয় ডেস্ক : নন্দীগ্রাম, শিঙ্গুর আন্দোলন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ করেছে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব।
আজ মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব চৌধুরী সাহেবের। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে আন্দোলন জমিয়ত করেছে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন চৌধুরী সাহেব। আডবাণীদের নির্দেশে বুদ্ধবাবু- অনিল বিশ্বাসদের বাংলার মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে ঘৃণ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে আপোষহীন ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব। ফলশ্রুতিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবু ক্ষমা চাইতে বাধ্য হোন। বামেদের অপশাসনের বিরুদ্ধে এরকম ভাবেই লাগাতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন চৌধুরী সাহেব। চৌত্রিশ বছরের সিপিএমের অপশাসন থেকে এই বাংলাকে মুক্ত করার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব জমিয়ত এবং জনাব সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেবের। স্বভাবতই বামপন্থীদের সিংহভাগের কাছেই সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব দু চোখের বিষ।
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব মাদ্রাসায় পড়া আলেম মানুষ, তিনি কাউকে তোয়াজ করে বা রাখঢাক করে ইসলাম এবং মুসলমানদের সম্পর্কে কথা বলেন না, তাই বর্ধমানের খাগড়াগড় কান্ডে কোনো রাখঢাক না করেই তিনি হিন্দুত্ববাদীদের মাদ্রাসা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষরযন্ত্রের বিরুদ্ধে ভয়ডরহীন ভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হোন, প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগে অভিযুক্তদের পাশে থাকার তাদের সবরকমের সাহায্য সহযোগিতা করার। রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হয়েও তিন তালাক ইস্যুতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বা কেন্দ্রীয় সরকারের ইসলাম বিরোধী ঘৃণ্য প্রচেষ্টার সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং কোনো রাখঢাক না করেই প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন এই বিষয়ে ইসলামের রায়।
নিজের পার্টির মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে কোনোরকম কুণ্ঠা কোনো রকম দ্বিধা না করেই সর্বসমক্ষে তিনি জানিয়ে দেন তিন তালাক নিয়ে শরীয়াহর প্রকৃত রায়। স্বভাবতই বিধর্মী বা প্রগতিবাদীদের সুরে ‘তাল মিলিয়ে’ অথবা ‘কৌশলগত বাতেলা’ দেওয়ার এই যুগে তিনি আধাখ্যাঁচড়া ইসলামের কথা না বলে তথাকথিত স্পর্শকাতর ইস্যুতেও শরীয়াহর প্রকৃত সিদ্ধান্ত দ্বিধাহীন চিত্তে প্রকাশ্যে শুনিয়ে দেবেন এটা অনেকেরই গাত্রদাহের কারন হয়ে যায়। এরকম ‘গোঁড়া মোল্লাকে’ অনেকেই সহ্য করতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক।


