না.গঞ্জে ও মুহাম্মদপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
পাথেয় রিপোর্ট : মোহাম্মদপুরের বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তানভির আহমেদ অনিক (৩৬) নামে এক ব্যক্তি এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিহত ব্যক্তির নাম লিপু। তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও মাদক মামলার আসামি।
বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফতুল্লার দাপা বালুর মাঠ এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার ভাষ্য।
নিহত লিপু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পিলকুনি এলাকার শামসুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬টি মামলা রয়েছে থানায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের করা মাদক চোরাকারবারির তালিকাতেও তার নাম ছিল। তাকে ধরিয়ে দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-এ-আলম।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় লিপুকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মাদক ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা জানায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে রাতে দাপা বালুর মাঠ এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে গেলে লিপুর সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে লিপুর সহযোগিরা তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ লিপুকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সে সময় ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে মোহাম্মদপুরের বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তানভির আহমেদ অনিক (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত অনিক ভাড়াটে কিলার ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের নেতা এবং হত্যা, অস্ত্র ও অপহরণসহ আরো কয়েকটি মামলার আসামি বলে জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিকের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।
র্যাবের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, কতিপয় অস্ত্রধারী যুবক নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে শলাপরামর্শ করার জন্য ট্রলারযোগে নদী পার হয়ে বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় আসবে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশাল কোম্পানির একটি বিশেষ আভিযানিক দলের সেখানে অবস্থান নেয়। এ সময় নদী পার হয়ে অস্ত্রধারী গ্রুপটি সেখানে এলে র্যাবের মুখোমুখি হয়ে পড়ে। র্যাব তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে যুবকরা ট্রলারে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এরপর র্যাব সেখানে তানভির আহমেদ অনিককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় র্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি চাপাতি, দুটি ড্যাগার ও পাঁচটি তাজা গুলি উদ্ধার করে র্যাব।


