নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আলোচনায় রাজি হাসান রুহানি
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে আলোচনা চলতে পারে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি, তবে তার আগে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
একই সঙ্গে ২০১৮ সালে একতরফাভাবে বের হয়ে যাওয়া ২০১৫ সালে করা চুক্তিতে আবারও আসতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। রোববার টিভিতে দেয়া এক ভাষণে হাসান রুহানি এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু দিন ধরেই পরমাণু অস্ত্র ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় বসার তাগিদ দিচ্ছিল ইরান।
কিন্তু ইরান আগে তেল বিক্রির ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাচ্ছিল।
রুহানি বলেন, আমরা সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করি। কিন্তু তার আগে আলোচনার পরিবেশ ঠিক করতে হবে। ট্রম্প যদি আমাদের সঙ্গে একমত হন- তা হলে যেকোনো সময়, কোনো স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি।
পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে দেশ দুটির মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত মাসে এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই নির্দেশ বাতিল করেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও তিন ইউরোপীয় দেশসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৫ সালে ইরান যে পরমাণু সমঝোতা সই করেছিল, তা থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে বেরিয়ে যায় ওয়াশিংটন।
এর পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই এ সমঝোতা বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি।
এদিকে এর আগে আমেরিকা শত্রু, বন্ধু নয় মন্তব্য বলে মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছিলেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা আমাদের শত্রু, বন্ধু নয়। আমেরিকার মোকাবেলায় ইরানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ড. হাসান রুহানি। একইসঙ্গে তিনি সারা বিশ্বে মার্কিন একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে লেখা মতামত কলামে প্রেসিডেন্ট রুহানি এসব কথা বলেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে লেখা মতামত কলামে তিনি আমেরিকার গত দুই বছরের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। ড. রুহানি বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের নীতিগুলো সারা বিশ্বের জন্য নতুন ও জটিল সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেন যুদ্ধের জন্য তিনি আমেরিকার কঠোর সমালোচনা করে রুহানি বলেন, সেখানে প্রতিদিন যে বর্বরতা চালানো হচ্ছে আমেরিকা তার সঙ্গী। পাশাপাশি তিনি মহান ফিলিস্তিনি জাতির কথা তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, এই জাতিকে অপমান-অপদস্ত করে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করা হচ্ছে। উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের প্রতি সমর্থনের জন্যও ইরানি প্রেসিডেন্ট আমেরিকাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এসব নীতি মধ্যপ্রাচ্যে অনেক সংকট তৈরি করেছে।


