নিয়ম মতোই মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিয়ম মতোই মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে ইসি : বাণিজ্যমন্ত্রী

পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ইসি নিয়ম মতোই মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, বাতিল হবে জেনেই বিএনপি এক আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে।

৫ ডিসেম্বর বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে বিএনপির অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বিএনপি জানতো তাই তারা অনেক জায়গায় একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। এমন কী অনেক আসনে দুইজনের বেশিও মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।

২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। সারাদেশে দাখিল করা ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রার্থিতা ফিরে পেতে বুধবার তৃতীয় দিনের মতো আপিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভিড় করেন প্রার্থীরা।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে আবেদনের শেষদিন বুধবার সকাল ১০টা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের আবেদন নেয়া হচ্ছে। শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের জড়ো হয়ে তথ্য-প্রমাণসহ ইসিতে আপিল করতে দেখা গেছে। আপিল গ্রহণের জন্য নির্বাচন ভবন চত্বরে ৮টি বুথ স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা বুথ করা হয়েছে। প্রার্থী বা তার মনোনীত প্রতিনিধিরা কমিশন চত্বর বুথে আপিল দায়ের করেন।

আপিলের প্রথম দিনে সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ৮৪ জন ইসিতে আবেদন করেন। আর আপিলের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ২৩৪ জন ইসিতে আপিল করেন। সেই হিসাবে গত দু’দিনে ৩১৮ প্রার্থী আপিল করেছেন।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অাপিল করতে গেছেন তার অাইনজীবীরা।

এর অাগে গত ২ ডিসেম্বর ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত, সাজা ভোগ বাতিল ও জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *