পরীক্ষা ছাড়া আসছে মিয়ানমারের গরু

পরীক্ষা ছাড়া আসছে মিয়ানমারের গরু

টেকনাফ প্রতিনিধি ● কোনও ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে আসছে মিয়ানমারের গরু। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন শত শত গরু টেকনাফের নাফ নদীর জলসীমানা অতিক্রম করে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে চলে প্রবেশ করছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ কারণে হুমকির মুখে রয়েছে দেশের প্রাণিসম্পদ। একইভাবে মানবদেহেরও ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা পশুসরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে মিয়ানমারের কোরবানির পশু। নিয়ম রয়েছে এসব পশু দেশে প্রবেশের আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার। কিন্তু, ওই করিডোরে তা হচ্ছে না। নেই কোনও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পশু চিকিৎসক। যে যার মতো করে কোরবানির পশু নিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই বছর টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে কোনও ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প না হওয়ায় আমাদের কাছে পশু চিকিৎসকও চাওয়া হয়নি। তবে মিয়ানমার থেকে আক্রান্ত কোনও পশু যদি দেশের ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে প্রাণিসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। এ কারণে ভিন দেশ থেকে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই ঢুকছে মিয়ানমারের পশুতিনি বলেন, ভিন দেশ থেকে আসা গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পশুর অ্যানথ্যাক্স, জলাতঙ্ক ও ক্ষুরা রোগসহ নানা সংক্রামক রোগ থাকতে পারে। এসব রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে মানবদেহেও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে অ্যানথ্যাক্স রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে মানবদেহের চামড়ার ওপর পচন দেখা দিবে। প্রচন্ড জ্বর হবে এবং শরীরে নানা উপশম দেখা দেবে।

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা আমান ওয়াহিদ জানান, তিনি কিছু আগে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে কোরবানির জন্য পশু কিনতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। কারণ মিয়ানমার থেকে আসা অধিকাংশ পশুর ক্ষুরা রোগসহ নানা অজানা রোগে আক্রান্ত থাকে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই ঢুকছে মিয়ানমারের পশুটেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরের ইজারাদার রেজাউল করিম রেজু বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না বিষয়টি সত্য নয়। শুধু আজকে পশু চিকিৎসক না আসার কারণে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না। টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস অফিসের তথ্য মতে, চলতি অর্থ বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ৮ হাজার ২৬টি গরু, দেড় হাজার মহিষ ও ৫টি ছাগল এসেছে করিডোরে। এসব কোরবানির পশু থেকে ৫৪ লাখ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। এছাড়াও গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৬-২০১৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে গরু, মহিষ এসেছে ৩ হাজার ৪৩৫টি। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ সাড়ে ৬৩ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে আরও কোরবানির পশু আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *