পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে তাঁর ইবাদত বা উপাসনার মাধ্যমে, যে ব্যক্তি যত বেশি ইবাদত করবে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা ততই বৃদ্ধি পাবে। আর পৃথিবীতে যে জায়গায় বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করা হবে সেই জায়গাটা অন্যান্য জায়গার চেয়ে দামি ও মূল্যবান হবে। এই জন্য পৃথিবীতে যত স্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি দামি ও প্রিয় স্থান হলো মসজিদ কারণ এখানে নামায, যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতসহ সব রকমের ইবাদত করা হয়ে থাকে। যেমনটি হাদীসে এসেছে রাসূল সা. বলেছনে- আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হলো বাজার। (মুসলিম)।
ইসলামে মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য ধর্মের উপাসনাগৃহগুলোর মত মসজিদ নিছকই কোন উপাসনাগৃহ নয়। তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিক ও ঐতিহাসিকভাবে তা এর থেকে ভিন্ন কিছু, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য-সমৃদ্ধ। মসজিদ ব্যক্তি মুসলমানের উপাসনার পবিত্র স্থান। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ নানা সামাজিক ভূমিকাও পালন করেছে। মসজিদ ছিল মুসলমানদের প্রধান শিক্ষালয়। সামাজিক আদালত।
বাংলাদশে একটি মুসলমি দেশ। এই দেশে বেশি বেশি নির্মাণ করা। তাই বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে সারা দেশে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ শিগগির শুরু হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে পলাশবাড়ীর ঐতিহাসিক অফিসের হাটে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে বহুমুখী একটি উপজেলা মডেল মসজিদ।
মডেল মসজিদগুলোর ডিজাইন ও নির্মাণ স্থাপত্যশৈলীসহ অন্যান্য অবকাঠামো হবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। শুধু নামাজ আদায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসনের বিভিন্ন স্তর বিশেষে প্রতিটি মডেল মসজিদকে ঘিরে একই সঙ্গে সংযোজন থাকবে নানাকিছু। থাকবে লাইব্রেরি, গবেষণা কক্ষ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, শিশু শিক্ষা কার্যক্রম, পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ ঘর, দেশি-বিদেশি সম্মানিত অতিথি ও মেহমানদের জন্য থাকবে প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা ও হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি সুবিধায় নির্মিত হবে মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স।
প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের গত ৫ এপ্রিল ওই প্রকল্পের আওতায় প্রথমত ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্রমে সব মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সগুলোর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। মসজিদগুলো বাস্তবায়নে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
পলাশবাড়ী উপজেলায় এমনি একটি মডেল মসজিদ নির্মাণে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। মডেল মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। মসজিদটি নির্মাণ হবে উপজেলা সদরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ঘেঁষে ঐতিহাসিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রথম স্বাধীন পলাশবাড়ীর অফিসের হাট নামক স্থানে। ওই স্থানটির মোট জমির পরিমাণ ২ একর ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ জমির উপর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে ওই মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সটি নির্মিত হবে।


