পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ হওয়া বিতর্কিত তিন তালাক বিলের কঠোর সমালোচনা করেছেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ভারতে মুসলিমদের উপর যে অত্যাচার চলছে, এটা তারই একটা অংশ।
রাজ্যসভায় তিন তালাক বিল পাশ হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার ক্ষোভ প্রকাশ করে টুইট বার্তায় ওয়াইসি বলেন, ২০১৪ থেকে মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার চলছে এটা তারই একটা অংশ। গুন্ডা দিয়ে বা পুলিশের অত্যাচারে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। ভারতের সংবিধানে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে। আমরা ন্যায়বিচার ও অধিকারের জন্য লড়াই করব।
এই বিল অনুযায়ী তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এতে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। এটা গণতন্ত্রের কালো দিন বলে মন্তব্য করেছে তারা। তারা বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, তারা সব মুসলিম মহিলাদের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে ৯৯টি ভোট পড়ে৷ যেখানে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮৪টি৷ বিলের বিরোধিতায় রাজ্যসভা থেকে ওয়াক-আউট করে এআইডিএমকে ও জেডিইউ ও টিআরএস৷
এদিকে লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার তিন তালাক বিল পাস করে ইসলামী শরিয়ত ও মুসলমানদের পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
তিনি বলেন, এ বিল মুসলিম নারীদের প্রতি ন্যায়বিচার নয় বরং অবিচার। বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্যস্থতার এ আইনটি করার মাধ্যমে মুসলমানদের শরিয়াহ ও পারিবারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে মোদি সরকার।
নারীদের অধিকার আদায়ের নামে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, এ আইনটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য করলেও মুসলিমদের কোনো প্রতিনিধি বা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শও করা হয়নি। সরকারের একগুঁয়েমী মনোভাব থেকে এ বিলটি জোর করে করা হয়েছে। যা গণতন্ত্র পরিচালিত কোনো দেশের জন্য খুবই লজ্জাজনক।


