পরীক্ষা কেন্দ্রে গায়ে আগুন
পোড়া দেহে মৃত্যুকে দেখছেন ফেনীর সেই ছাত্রী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফেনীর সেই ছাত্রীর কথা এখন সবারই জানা। যৌন নিগ্রহের প্রতিবাদ করায় তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। আর এর সবচেয়ে দাগী আসামী হলেন সেই মাদরাসার অধ্যক্ষ নিজেই। এখন সে হাসপাতালের বেডে ধুঁকে ধুঁকে কাটাচ্ছে সময়।
ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া সেই ছাত্রী (১৮) জীবন শঙ্কায় রয়েছে।৭৫ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অপরিবর্তিত।তার সুস্থ হয়ে উঠাটা কঠিন।
রোববার সকালে তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল গণমাধ্যমকে বলেন, তার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল।এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।শরীরের তিন চতুর্থাংশ পুড়ে গেছে।শ্বাসনালীও পুড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘মেয়েটির শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ব্যাপারে চিকিৎসকরা এখনও কিছু বলতে পারছে না। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।
ঢামেকে বোনের বাঁচা মরার চিন্তায় শঙ্কিত তার ভাই বলেন, ‘আজ সকালে বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক দেয়া ছিল। সে পানি খেতে চেয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধ থাকায় পানি দেয়া যায়নি। তার অবস্থা গতকালের মতই আছে।
ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার মা, বড় ভাই ও মেজো ভাই বার্ন ইউনিটে রয়েছেন। তার মা মেয়ের জন্য হাসপাতালের মেঝেতে বসে বিলাপ করলে স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দের।
তার চাচাতো ভাই বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তারা আল্লাহকে ডাকতে বলছেন। আমরা সবাই অসহায়।
মোবাইল ফোনে এক স্বজনকে ছাত্রীর অবস্থা সম্পর্কে জানান তার চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার বাঁচার আশা ক্ষীণ।
প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।


