প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে

প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিরাজগঞ্জে বসন্তের আগমনে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সেজেছে। চারিদিকে কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে ফাগুনের উত্তাল হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলেছে নানা রকমের ফুল।

বসন্তের আগমনের সাথে সাথে সিরাজগঞ্জে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে গাড় লাল রঙের শিমুল পলাশসহ নানা রঙের ফুল। তবে কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে শিমুল পলাশ গাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। এক যুগ আগেও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে, রাস্তার ধারে পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত, এসেছে বসন্ত।

প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। জানা যায়, এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। শীতের শেষে শিমুলের পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে যায়। বাতাসে আপনা-আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়।

অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে রোপণ করে না। নেওয়া হয় না কোন যত্ন। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর খুব প্রিয় খাদ্য।

বর্তমানে মানুষ এ গাছ কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি,দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি । ফলে আজ বিলুপ্তির পথে শিমুল গাছ। জেলার কামারখন্দ উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হোসেন আলী বলেন, আগে গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এখন আর দেখা যায় না।

উপজেলার ঠাকুরজি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মতলব মুন্সী বলেন, একটি বড় ধরনের গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। তবুও এই গাছ বিলুপ্তির পথে। আগে শিমুল তুলা দিয়ে লেপ, তোষক, বালিশ, তৈরি করা হতো। কিন্তু শিমুল তুলার মূল্য বৃদ্ধিতে গার্মেন্টস এর জুট কাপড় দিয়ে তৈরি তুলা, পাম্পের তোষক, বালিশ সহ পঞ্চ, কাপাশ তুলা আজ শিমুল তুলার স্থান দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া শিমুল ফল ফেটে তুলা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। তাই শিমুল গাছকে একটি বাড়তি ঝামেলা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে গ্রাম বাংলার মানুষ।

বর্তমানে শিমুল তুলা ৪-৫ শত টাকা কেজি, আর গার্মেন্টস এর জুট দিয়ে তৈরি তুলা ৪০-৫০ টাকা, কার্পাস তুলা ২৫০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *