প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শেষ চারেও সাজিদ জাভিদ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শেষ চারেও সাজিদ জাভিদ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শেষ চারেও সাজিদ জাভিদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাজিদ জাভিদ প্রথম মুসলিম হিসেবে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শেষ চারেও আছেন তিনি। ৪৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদের নাম শেষ চারে থাকায় আলোচনাটা এখন চলছে বিশ্বজুড়েই। বর্তমানেও তিনি অনেক বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। হিসাবটা কি তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আ্ওয়াজ উঠেছে জোরসে। প্রথম সাজিদ জাভিদ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিটেনের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। তেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত হলে তিনিই হবেন দেশটির প্রথম কোনো মুসলমান প্রধানমন্ত্রী।

৪৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ জাভিদের নাম বৃটেনের সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক নানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত জরিপে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী রোরি স্টুয়ার্ট ছিটকে পড়ায় যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান হওয়ার দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বির সংখ্যা ৪ এ এসে ঠেকেছে।

ক্ষমতাসীন এ দলটির নতুন শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদে টেরিজা মে-র স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বুধবার টোরি সাংসদদের মধ্যে তৃতীয় রাউন্ডের ভোটে ২৭ জনের সমর্থন পেয়ে রোরি পঞ্চম হন। আগের দফার চেয়ে এবার তিনি ১০ ভোট কম পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার চতুর্থ রাউন্ডের ভোট হওয়ার কথা; ওই রাউন্ডে কেবল একজন বাদ পড়লে শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বেছে নিতে সন্ধ্যায় পঞ্চম রাউন্ডের ভোটও মাঠে গড়াবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কনজারভেটিভ পার্টির এ নেতৃত্ব দৌড়ে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন এখনও অনেক এগিয়ে। তৃতীয় রাউন্ডের ভোটে তিনি মোট ১৪৩টি ভোট পেয়েছেন, যার আগের আগের দফার চেয়েও ১৭টি বেশি।

৫৪ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন জেরমি হান্ট; ৫১ ভোট নিয়ে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন মাইকেল গোভ। আপাতত টিকে থাকা সাজিদ জাভিদ ব্যাগে পুরেছেন ৩৮ জনের সমর্থন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়ার পর হতাশা লুকাননি রোরি। বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট নিয়ে তার আশঙ্কা ‘সম্ভবত সত্য বলেই প্রমাণিত হবে’; কিন্তু মানুষ এখনও তা শুনতে প্রস্তুত নয়।

মঙ্গলবার বিবিসিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ভালো না করায় এ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীর সমর্থন কমে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লাইভ ওই বিতর্কে নিজের উপস্থাপনাকে নিজেই ‘নিস্প্রভ’ অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন রোরি।

নির্দিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছেঁটে ফেলতে অনেকে তাদের বাড়তি ভোট তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থীকে ধার দিচ্ছে বলেও বাদ পড়ার পর অভিযোগ করেন পেনরিথ অ্যান্ড দ্য বর্ডারের এ টোরি সাংসদ।

দ্বিতীয় রাউন্ডের চেয়ে ৫ ভোট বেশি পেয়ে টিকে থাকা সাজিদ জাভিদ নেতৃত্ব নির্বাচনের দৌড়ে অংশ নেওয়া রোরিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারলে জনসনের বিরুদ্ধে ‘গঠনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ গড়ে তুলতে পারবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছের মে-র মন্ত্রিমভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সাজিদ।

লড়াইয়ে থাকা শীর্ষ দুইজনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে ২২ জুন থেকে কনজারভেটিভ পার্টির এক লাখ ৬০ হাজার কিংবা তারও বেশি সদস্যের মধ্যে ভোট হবে।

চূড়ান্ত লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী, তা জানতে জুলাইয়ের চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *