প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্র সচিব চীন যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্র সচিব চীন যাচ্ছেন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বেইজিং যাচ্ছেন। আগামীকাল সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুন ওয়েডংয়ের সাথে তিনি বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে আগামী জুলাইয়ে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় তার সফরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কাছাকাছি সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে। চলতি মাসে ভারতে জাতীয় নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর এ সফরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দিল্লি সফরের পর প্রধানমন্ত্রী বেইজিং যেতে পারেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রথম কোনো দেশ সফরে যাবেন জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, দিল্লি তো বেইজিং থেকে কাছে।

২০১৪ সালে বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঢাকা সফরে আসেন। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী আবারো বেইজিং সফর করেন। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় পুরোটাই চীনের পক্ষে। গত বছর চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য। অন্য দিকে বাংলাদেশ রফতানি করেছে মাত্র ৭০ কোটি ডলারের পণ্য। বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয় চীন। তার পরও চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি আশানুরূপভাবে বাড়ছে না। চীনের বাজার ধরতে পণ্যের বহুমুখীকরণের পরামর্শ দিয়েছে বেইজিং।

বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে চীনের বিনিয়োগ চায়। বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনের বড় অবদান রয়েছে। বর্তমানে ছয় শতাধিক চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। এর মধ্যে ২৫টির আঞ্চলিক প্রধান দফতর বাংলাদেশে।

তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের একটি বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না বা পাওয়ার চায়নার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মহাপরিকল্পনায় পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির আদলে তিস্তার দুই পাড়ে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর, নদী খনন ও শাসন, ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষি সেচব্যবস্থা, মাছ চাষ প্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

চীনা কোম্পানিটি ইতোমধ্যে তিস্তাপাড়ে নির্মিতব্য প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছে। তিস্তা নদী পাড়ের জেলাগুলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় চীনের তিনটি প্রতিনিধি দল কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২ আগস্ট রংপুরের জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের আপত্তি রয়েছে। ভারতের মতে, তিস্তা প্রকল্পটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য স্পর্শকাতর অঞ্চল ‘চিকেন নেক’ এর কাছে বাংলাদেশ অংশে বাস্তবায়ন করা হবে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য সঙ্কীর্ণ অঞ্চলটি চিকেন নেক হিসেবে পরিচিতি। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কুমার কোয়েত্রা ঢাকা সফরে এসে তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রিজার্ভ ঘাটতি পূরণে চীনের কাছ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। চীন এই অর্থ তার দেশের স্থানীয় মুদ্রায় দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীন থেকে আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ এই অর্থ দিয়ে মেটানো সম্ভব।

Related Articles