নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তার সরকারের সকল প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সিলেট এলাকায় যে বন্যা দেখা দিয়েছে তা আগস্টের শেষদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বন্যা প্লাবিত হতে পারে। এ বন্যা মোকাবেলায় সরকারের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার জনগণকে সহায়তায় খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রীসহ পদক্ষেপ সরকারের রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোন দুর্যোগে প্রতিটি বিভাগকে দায়িত্ব পালন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্থায়ী নির্দেশনা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল ওয়েজেস অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি কমিশন রিপোর্ট পেশকালে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আমরা নিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছি। তবে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে। প্রধানমন্ত্রী আগের দুটি প্রলয়ঙ্করী বন্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৮৮ সালে খাদ্য সঙ্কটে বহু মানুষ মারা গেছে। তবে তার সরকার ১৯৯৮ সালের বন্যা সফলভাবে মোকাবেলা করেছে। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। দেশের ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। আমরা জানি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের একটি সাধারণ বিষয়। সেজন্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।
ভানবাসীদের পাশে ত্রাণমন্ত্রী : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, বন্যা প্লাবিত মানুষের দুর্ভোগের অবসান না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে। তাদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেয়া হবে। মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সাধীপুর বাজারে বন্যা ভানবাসী মানুষের মাঝে ত্রাণবিতরণের সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিক আগাম বন্যায় মৌলভীবাজারে এলাকায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি পুন:নির্মাণের জন্য এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন ও ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে বরাদ্দের পাশাপাশি শুকনো খাদ্য চিড়া, মুড়ি, ডাল, ময়দাসহ দুই হাজার প্যাকেট ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।


