বাবরি মসজিদ রায়ে সবধর্মের স্বার্থই বিনষ্ট হয়েছে : মুফতী ফয়জুল করীম
পাথেয় রিপোর্ট : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত মুসলমানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য বিশ্ব আদালতে মামলা করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা সন্ত্রাসী কায়দায় বাবরি মসজিদকে ভেঙ্গেছে তাদের বিচার না করে উল্টো মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির বানানোর রায় আদালতের প্রতি মানুষের আস্থাকে বিনষ্ট করার নামান্তর।
তিনি বলেন, অনুমান করে, বিশ্বাসের ওপর কিংবা স্বপ্নের ওপর নির্ভর করে কোন রায় হতে পারে না। এটা আইনের পরিপন্থি। তিনি বলেন, আদালতে এভাবে একপেশে রায় দিয়ে পাঁচশত বছরের মসজিদ ভেঙ্গে দেয়ার নজির ইতিহাসে নেই। অথচ ১৯৪৯ সালে ভারতের সংবিধান তৈরি করা হয়, যাতে সকল ধর্মের ও বর্ণের মানুষের অধিকারের কথা লেখা হয়েছে। অথচ সুপ্রিমকোর্টের এ রায়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্য করেছে।
তিনি বলেন, এ রায় বাস্তবায়ণ হলে অন্যান্য ধর্মের স্বার্থও প্রশ্নবিদ্য হলো। এতে খ্রীষ্ট ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্মসহ অন্যান্য সকল ধর্মের স্বার্থ রক্ষায় ভারত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিক এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সকলকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে বাবরি মসজিদ রক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে লংমার্চের মত কঠোর কর্মসূচিও দেয়া হবে।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, আদালত হলো সর্বস্তরের মানুষের আস্থার জায়গা। আর এই আদালত যখন প্রশ্নবিদ্য হয়ে যায় তখন সাধারণ মানুষের আর কোন আস্থার জায়গা বাকি থাকে না। তিনি জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বাবরি মসজিদ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে বিশ্ব আদালতে ভারতের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করারও আহ্বান জানান।
বুধবার বিকেলে কয়েকটি জাতীয় মিডিয়ায় সাক্ষাতকার প্রদানকালে মুফতী ফয়জুল করীম এসব কথা বলেন।
এ সময় দলের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, খন্দকার গোলাম মাওলাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


