পাথেয় রিপোর্ট : নয়াদিল্লী : ২২ জুলাই রাজস্থানের আলোর এলাকায় অনুষ্ঠিত সভায় সম্প্রতি আকবার খাঁ’র হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে এর ওপর গভীর শোক ও ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন ‘অল ইণ্ডিয়া তানজীমে উলামায়ে হকের ‘ চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ এজায আরেফী কাসেমী। তিনি বিজেপিকে দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, যখন থেকেই বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তখন থেকেই রাজ্যে নিয়মকানুন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি আরও বলেন, ভারতের সবখানেই এখন অনিয়ম, নিরাপত্তাহীনতা এবং জোরজবরদস্তির রাজত্ব।
সম্প্রতি গোলযোগ সৃষ্টি করে আকবার খাঁ’কে হত্যার কঠোর সমালোচনা করে তিনি এ কথাও বলেন, ইতোপূর্বে এ রাজস্থানেই পেহলো খাঁ ও উমর খাঁ’কে একই কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে তাদের হত্যার ব্যাপারে মামলা করা হলে প্রশাসন মুসলিম ছেলেদের কোনও সুযোগ না দিয়ে বরং তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই হত্যার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে টালমাটাল একটা অবস্থা তৈরী করে রাখে। এছাড়াও ওই অমানবিক এবং নিয়ম বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা না করে এর স্বপক্ষে অবস্থান নেয় প্রশাসন।
তিনি বলেন, আকবার খাঁ’কে স্মাগলার সাজিয়ে যে কায়দায় হত্যা করা হয়েছে এতে বহির্বিশ্বে আমাদের দেশের মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
মাওলানা তার বক্তব্যে বলেন, সব রাজ্যের আদালতই চোরাচালানীর কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করে থাকে কিন্তু এখানে আদালত প্রকৃত অপরাধীদের পর্দার অাড়ালেই রাখছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যে আইনি ব্যবস্থা আছে এ থেকে তাদের নিস্কৃতি দিয়ে দিয়েছে যেন। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই বলেছিলেন, কারও নামে উগ্রতা প্রচারকারীকেও ছাড় হবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কিন্তু এসবই ছিলো তাদের কথার কথা। মূলত তাদের কথা ও কাজে কোনও মিলই নেই। তাদের কথা ও কাজ একটি অন্যটির বিপরীত।
মাওলানা কাসেমী বলেন, দেশ যখন বেকারত্ব, পরস্পরে যোদ্ধাংদেহী মনোভাব, বিশৃঙ্খলা, অসচ্ছলতা, অনিয়ম, সুদ-ঘুষসহ আরো নানান সমস্যায় জরাগ্রস্ত সেখানে আমরা এ থেকে উত্তরণ ও এসব সমস্যা থেকে দেশকে মুক্তির চিন্তা না করে ব্যস্ত থাকি আমাদের ধর্মীয় বিভেদ নিয়ে, আর উঁচুনিচু জাতপাত নির্ণয়ে। রাজনীতিকে মসজিদ-মন্দির ইস্যুতে নিয়ে এসে উস্কে দিই সাম্প্রদায়িক বিভেদ। কবরস্থান আর শ্মশানের নামে ছড়িয়ে দিই বিদ্বেষের বিষ।
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : কাউসার মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি সাহাফাত, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


