ব্যবসা চালাতে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে অর্থ দিয়েছিল লাফার্জ

ব্যবসা চালাতে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে অর্থ দিয়েছিল লাফার্জ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সিরিয়ায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে জঙ্গি সংগঠন আইএসকে অর্থ দিয়েছিল ফ্রান্সের সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জঙ্গি সংগঠনটির হাতে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তুলে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

আইএসকে অর্থ দেওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে একটি আপসে যেতে হয়েছে লাফার্জকে। সে অনুযায়ী প্রায় এক দশক আগের ওই ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন শহরের একটি আদালত এই জরিমানা করেছেন।

লাফার্জ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আইএসকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সিরিয়ায় লাফার্জের সিমেন্ট উৎপাদন চালিয়ে যেতে ইসলামিক স্টেটের নেতাদের অর্থ দিয়েছিলেন তাঁরা। এর আগে ফ্রান্সের আদালতে লাফার্জের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, অর্থ দেওয়ার পেছনে জঙ্গি সংগঠনটিকে সহায়তার কোনো সংকল্প ছিল না প্রতিষ্ঠানটির।

গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবসা শুরু করে লাফার্জ। সিরিয়ায় যখন ইসলামিক স্টেটের তাণ্ডব চলছিল, তখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুরোদমে ব্যবসা চালিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। যদিও ঝুঁকির মুখে সে সময় দেশটি থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান।

জঙ্গিদের অর্থ দেওয়াসংক্রান্ত কিছু গোপন নথি ২০১৮ সালে প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। ফ্রান্সের আদালতের ওই নথিতে দেখা যায়, আইএসকে সরাসরি অর্থ দেয়নি লাফার্জ। এ কাজে তারা সহায়তা নিয়েছিল তৃতীয় পক্ষের। ব্যবসা চালিয়ে যেতে একইভাবে প্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার অঙ্গসংগঠনসহ সিরিয়ায় অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও অর্থ দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রেও লাফার্জের বড় ব্যবসা রয়েছে। আইএসকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে লাফার্জের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনে মামলা চলছিল। ওই আইন অনুযায়ী, দেশটির কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা পাওয়া ব্যক্তি ও সংগঠনকে সহযোগিতা করতে পারবে না কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। সেই মামলায় আজ জরিমানার মুখে পড়তে হলো লাফার্জকে। এর আগে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার দায়ে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠাকে এত বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার লাফার্জের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইএসকে অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, তাঁরা বর্তমানে লাফার্জ বা এর কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত নেই। তাঁরা যা করেছিলেন, তা লাফার্জের আচরণবিধির ঘোরতর লঙ্ঘন ছিল। তবে তাঁদের ওই কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব নিয়েছে লাফার্জ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *