আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● চীন-ভারত সীমান্তের বিরোধপূর্ণ ডোকলাম উপত্যকায় কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত। গত জুন মাসের ১৮ তারিখ থেকে সেখানে মুখোমুখি অবস্থানে চীন ও ভারত সেনাবাহিনী। গণমাধ্যমের কাছে দেয়া নথিতে বুধবার চীন দাবি করে, গত ১৬ জুন ভারতের ২৭০ জন সেনা ডোকলাম উপত্যকায় প্রবেশ করে সীমান্তের ১০০ মিটার গভীরে প্রবেশ করে চীনের রাস্তা নির্মাণ বাধা দেয়। জুলাইয়ের শেষের দিকে এখনো ৪০ জন ভারতীয় সেনা ও একটি বুলডোজার বেআইনিভাবে সেখানে অবস্থান করছে। ভারতীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দুই পক্ষে আনুমানিক ৪০০ জন করে সেনা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। নয়াদিল্লি ও বেইজিং সিকিমে তিনদেশের সীমান্ত সংযোগ রেখা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করে।
গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের সরকার ২০১২ সালে একমত হয়েছিল যে তিনদেশের সীমান্ত সংযোগ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। এককভাবে এই সীমান্ত সম্পর্কে কোনো কিছু নির্ধারণ করা হবে সেই সমঝোতার লঙ্ঘন। এদিকে চীনের দাবি ১৮৯০ সালে গ্রেট ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে হওয়া সিকিম ও তিব্বত সংশ্লিষ্ট কনভেনশনে এটা পরিষ্কার করে বলা হয়েছিল, চীন সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত ডংলাং (ডোকলাম) এলাকা অবিসংবাদিতভাবে চীনের ভূখণ্ডের অন্তর্গত।
বুধবার প্রকাশিত নথিতে চীন, ভুটান ও ভারতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, চীন ও ভুটানের সীমান্ত বিরোধের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের কোনো অধিকার নেই সেখানে বাধা দেয়ার। চীনের ভূখণ্ডে ভারতের অনুপ্রবেশ শুধু চীনের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বই ক্ষুণ্ন করেনি বরং এটি ভুটানের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ডোকলামে চীনের রাস্তা নির্মাণ বন্ধর সিদ্ধান্ত ভারত এককভাবে নেয়নি বরং ভুটানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছে। ভারতের দাবি ডোকলাম উপত্যকায় চীনের রাস্তা নির্মাণ ভারতের জন্য কৌশলগত নিরাপত্তা হুমকি।
এই রাস্তা নির্মাণ হলে চীন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি প্রদেশকে সংযুক্ত করা সরু ভূমি ‘চিকেন্স নেক’-এ প্রবেশ করার সক্ষমতা অর্জন করবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষেরই সেনা প্রত্যাহার করে আলোচনায় বসতে হবে। তবে চীন আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে বলেছে, আগে ভারতকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে এনডিটিভি চীন সরকারের শীর্ষস্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, পর্দার আড়ালে এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং দুই পক্ষেই আশা করছে সীমান্ত সমস্যার সমাধান দ্রুতই হবে।


