ভারতে দেড়শ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা!

ভারতে দেড়শ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে অন্তত ১৫০টি মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশে ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে হিন্দু যুব বাহিনী নামে একটি উগ্র ডানপন্থী সংগঠন। সংগঠনটি বলছে, আগামী দিনে রাজ্যের সব মন্দিরেই এমন ব্যানার লাগাবে তারা। সেখানে স্পষ্টভাবে সনাতন ধর্মের মানুষ ছাড়া অন্য কারও মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। খবর- আনন্দবাজার।

সোমবার (২২ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে দেরাদুনের চাকার্তা রোড, শুদ্ধওয়ালা ও প্রেম নগর এলাকার মন্দিরগুলোতে এ নির্দেশিকা ঝোলানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরে ঢুকে পানি পানের ঘটনার জেরেই এ সিদ্ধান্ত।

সম্প্রতি গাজিয়াবাদ শহরের একটি মন্দিরে এক মুসলিম যুবকের পানি পানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চলছে ভারতজুড়ে। ওই মন্দিরটিতে ‘মুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা একটি বোর্ড ছিল। তারপরেও মন্দিরের কল থেকে পানি পান করায় পুরোহিতের নির্দেশে লাঞ্ছিত করা হয় ওই যুবককে।

হিন্দু যুব বাহিনীর রাজ্য সম্পাদক জিতু রান্ধওয়া জানান, গাজিয়াবাদের মন্দিরের পুরোহিত জাতি নরসিংহানন্দের সমর্থনেই এ ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। মন্দিরে মুসলিম যুবককে লাঞ্ছনার ঘটনায় পুরোহিতের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী।

ওই মন্দিরকে তার পূর্বপুরুষের সম্পত্তি দাবি করে আসলাম বলেছিলেন, তিনি সেখান থেকে অবিলম্বে ওই পোস্টার সরানোর ব্যবস্থা করবেন। যাতে অহিন্দুদের মন্দিরে প্রবেশে কোনো বাধা না থাকে।

এ বিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা জিতু জানান, আসলামের ওই হুমকির প্রতিবাদে এবং মন্দিরের পুরোহিতের সমর্থনে উত্তরাখণ্ডের সব মন্দিরের বাইরে এই নির্দেশিকা ঝোলাবেন তারা।

আরও পড়ুন: মন্দিরে পানি পান করায় মারধরের শিকার মুসলিম শিশু

জিতু বলেন, ‘মন্দির সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষজনের শ্রদ্ধার স্থান। তাই শুধু সনাতন ধর্মের মানুষজনেরই মন্দিরে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত।’

দেবভূমি হিসেবে পরিচিত উত্তরাখণ্ডে অজস্র মন্দির রয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির মানুষ আসেন এই তীর্থ দর্শনে। ‘অহিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ’ ব্যানার টাঙিয়ে কি দর্শনার্থীদের আটকানো হবে? এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি মন্দির কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *