ভারতে ফণীর ছোবলে ৪ জনের প্রাণহানী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘূর্ণিঝড় আসবে আর মানুষ মারা যাবে যেন এটা স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতে ফণীর ছোবলে এ পর্যন্ত চারজনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ভারতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে এটি। সেইসঙ্গে শুরু হয় ঝড়ো বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিপাত। এতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরি ও গোপালপুরের বিভিন্ন এলাকা। ইতোমধ্যে ওড়িশার ১১ লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টার দিকে অতিশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভারতের ওড়িশার পুরী ও গোপালপুর। ফণী পাঁচ মাত্রার, কাছাকাছি বিশেষ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস। ইতোমধ্যে ঝড়ো বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরী, গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। সরিয়ে নেয়া হয়েছে রাজ্যের ১১টি উপকূলীয় জেলার ১১ লাখ বাসিন্দাকে।
ওই অঞ্চলে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী। উপকূলীয় অঞ্চলে সাড়ে তিন থেকে ৯মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়তে পারে। এরপর ক্যাটাগরি এক মাত্রায় পরিণত হয়ে আঘাত হানবে পশ্চিমবঙ্গে। এ অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শনিবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ট্রেন চলাচল।
পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বিকেল নাগাদ মৌসুমি ঝড় হয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এর আগে, ওড়িশায় ১৯৯৯ সালে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোনে অন্তত ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ফণীকে সুপার সাইক্লোন থেকেও শক্তিশালী বলছে ভারতের আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া ফণী বাংলাদেশেও আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশে আঘাত হানার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে ফণী দূর্বল হয়ে প্রবেশ করবে। এর প্রভাব থাকবে দুদিন। এর প্রভাবে শুক্র-শনি দিনভর বৃষ্টি থাকবে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ শুক্রবার সকালে জানান, উড়িষ্যা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ছোবল মারা ফণী পশ্চিবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। সেখান থেকে দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আসবে সন্ধ্যা নাগাদ। বাতাসে গতিবেগ থাকবে ৮০-১০০ কিলোমিটার।
তিনি জানান, সারারাত ফণী সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল অঞ্চলের দিক থেকে ফরিদপুর, ঢাকা হয়ে ভারতের মেঘালয়ের দিকে যাবে। প্রসঙ্গত প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে আঘাত হেনেছে। বাতাসে এর গতিবেগ ছিল ২০০ কিলোমিটার। এর পর এটি পশ্চিমবঙ্গের দিকে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আছড়ে পড়বে বাংলাদেশ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


