পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আসন্ন ভারতের লোকসভা নির্বাচন ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছ। সাত দফায় এই ভোট হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জরিপ চালিয়ে আসছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা যাচ্ছে।
গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত সি ভোটার জরিপে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি জনসমর্থন আছে ৫৬ ভাগ। রাহুল গান্ধীর এর চেয়ে কম। প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ৫০ ভাগ মানুষ খুবই সন্তুষ্ট। ৪০ ভাগের বেশি মানুষ মনে করেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে ভাল বোঝাপড়া আছে।
এদিকে রমজান মাসে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সূচি তৈরি করায় রোজায় ভোট চায় না মুসলমানরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন— ‘রমজান মাসে ভোট না হলেই ভালো হত। বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারতো নির্বাচন কমিশন।’
সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেছেন— দেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের ইমোশনের গুরুত্ব দেন না। দেশের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম সম্প্রদায়কে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যেই রমজানের মধ্যে নির্বাচন করাচ্ছেন। আগে চক্ষুলজ্জা ছিল, এখন তাও চলে গেছে। রমজান মাসে নির্বাচন হওয়ায় ভোট প্রচারে সমস্যা হবে। রমজান মাসে নির্বাচন না করলেও পারতো।
ভারতের নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী বলেছেন— রমজান মাস ত্যাগ এ তিতিক্ষার মাস। এই মাসে নির্বাচন দেওয়া উচিত হয়নি। কারণ, নির্বাচনে অনেক জায়গায় সমস্যা হতে পারে। তাই রোজাদারদের অসুবিধা হবে।
বিধায়ক ডা. নুরুজ্জামান বলেছেন— ‘রমজানের আগে নির্বাচন না হলেই ভালো হত। রমজান মাসে ভোট হলে স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম সমাজের কিছু সমস্যা দেখা দিবে। সাতদফা না করে রমজানের আগেই ভোট শেষ করা উচিত ছিল।
প্রাবন্ধিক ও লেখক এম এ শামসুদ্দিন বলেছেন— ‘রমজান হলো সিয়াম সাধনার মাস। রমজান মাসে নির্বাচন হলে অসংখ্য মুসলিম ভোটার ও সরকারি কর্মীরা সমস্যার পড়বেন। রমজানে ভোট না হলেই ভালো হত।’
সারাবাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন— রমজানের মত গুরুত্বপূর্ণ মাসকে অবজ্ঞা করে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা খুই দুর্ভাগ্যজনক। সারাবাংলা সংখ্যালঘু কাউন্সিলের পক্ষ থেকে রমজানে নির্বাচন না করার জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। বিবেচনা না করার ফলে মুসলিম ভোটদাতা ও মুসলিম সরকারি কর্মীরা সমস্যায় পড়বেন। এতে আমরা ব্যথিত।
পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদরাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম ফারহাদ বলেছেন— রমজান মাসে কেন নির্বাচন রাখা হলো। এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভাবা উচিত ছিল। এতে রোজাদারদের অসুবিধায় পড়তে হবে।


