ভয় নয় আইন মেনে কোরবানী করার আহ্বান ইন্ডিয়ান আলেমদের
গুরুত্বের সঙ্গেই কোরবানির কাজ সম্পাদন করতে হবে : উলামায়ে কেরাম
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কিছু অবস্থার পরিপেক্ষিতে এবছর কোরবানির জন্য পশু ক্রয় এবং কোরবানির কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন মুসলমানগণ। এই জটিলতা থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করার সামর্থ যারা রাখেন তাদের অবশ্যই কোরবানি করতে হবে।
শুধু জটিল অবস্থার দরুণ চিন্তিত হয়ে কোরবানির ব্যাপারে কোন ধরনের উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব রেখে অন্যান্য ঈদের মত এবারের ঈদেও কোরবানির কাজ সম্পাদন করতে হবে।
এক্ষেত্রে হুজুর (সাঃ) এর সতর্কবাণী স্মরণে রাখা উচিত, হুজুর (সাঃ) বলেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি ঈদুল আযহায় কোরবানির কাজ সম্পাদন না করবে, সে যেন আমাদের ঈদগায় না আসে।
কোরবানি নিছক কোন প্রথা নয়, বরং এটা ইব্রাহিম (আঃ) এর এমন এক সুন্নত যার উপর হুজুর (সাঃ)ও আমল করেছেন। ইবাদতের ক্ষেত্রে কোরবানির এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যে অন্য কোন নেক আমলই এর পরিপূরক হতে পারে না, একারণে এ বিষয়ে শুধু দ্বীন এবং শরীয়তের চাহিদা মোতাবেকই আমল করতে হবে।
দ্বীনি বিষয়াদির সাথে যুক্ত এক আপিলের মধ্যে এই বিষয়গুলো প্রকাশ করা হয়েছে, যা তারা মুসলিম জনসাধারণের জন্য করেছেন।
এই আপিলে মুসলিম জনসাধারণদের প্রতি আবেদন করা হয়েছে, তারা যেন রাস্তাঘাট এবং অলিগলিতে কোরবানি না করেন, বরং প্রশস্ত কোন স্থানকে কোরবানির কাজ সম্পাদন করার জন্য বেছে নেন। রক্ত এবং অন্যান্য বর্জ্যগুলোকে যেন অবশ্যই মাটি চাপা দিয়ে দেয়া হয়, এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হবে।
ঘন বসতি, শহর এবং গ্রামগুলোতে যেন সম্মিলিতভাবে কোরবানি করার ব্যবস্থা করা হয়, অর্থাৎ যেন এমন একটি খোলা জায়গার ব্যবস্থা করা হয় যেখানে লোকজন এসে কেরবানির কাজ সম্পাদন করতে পারেন।
আপিলে মুসলমানদেরকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, তারা যেন নিজেদের আচরণ দ্বারা সাধারণ লোকজন বিশেষ করে পাড়া প্রতিবেশিদেরকে সমালোচনার সুযোগ করে না দেয়, এবং সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার কোন সুযোগ না দেয়। নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখে, এবং কানুনের বিপরীতে কোন কাজ যেন অবশ্যই না করে।
এজন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, ঈদের কিছুদিন পূর্বেই এলাকার কিছু নেতৃত্বস্থানীয় এমন লোকদের নিয়ে যেন একটা কমিটি গঠন করা হয়, যারা পরিস্থিতির উপর পূর্ণ ধারণা রাখেন, এবং সমস্যা সমাধানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি নিজ দায়িত্বে লোকদের কোরবানির কাজ সম্পাদনের উপর খেয়াল রাখতে পারেন।
এই কমিটি বিচার ব্যবস্থার সাথে সম্পর্ক রাখবে, এবং শান্তি ও নিয়ম রক্ষায় বিশেষ মনযোগ দিবে। এবং যাতে করে কোন ধরনের কোন গুজব না ছাড়ায় সে বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কোন উদ্বেগজনক খবর এলেই তা যেন উল্লেখ্যিত কমিটিকে তা জানানো হয় এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করত সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়।
আপিল এর সত্যায়ন কারীগণ মসজিদের ইমাম-খতিবদেরকে আবেদন করেছেন, তারা যেন মুসলিমদেরকে কোরবানির প্রতি উৎসাহিত করেন, এবং তাদেরকে এ বিষয়ের মাসআলাসমূহও জানিয়ে দেন।
এবং মুসলিমদেরকে এটাও যেন বলে দেয়া হয়, তারা যেন ঈদের দিন সমূহে “তাকবীরে তাশরীক” পড়ার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আহসান হাবিব রাফী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : জমিয়তে উলামা হিন্দ, দিল্লী অফিস


