মধুপুর পীরের দলবদল এবং গন্তব্য রহস্য

মধুপুর পীরের দলবদল এবং গন্তব্য রহস্য

আদিব সৈয়দ : ঢাকায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একটা টপিক বার বার আলোচনায় উঠে আসছে- মধুপুরের পীর আবদুল হামিদের কথা। তিনি দল ত্যাগ করেছেন। ইসলামী ঐক্যজোট ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন শাইখুল ইসলাম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর আদর্শ ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ অনুসরণ করে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গী মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে।

জমিয়তের সংসারে তিনি কেমন থাকবেন আর কতদিন কাটাবেন সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো আরও পরে জানা যাবে। তবে কেন তিনি দলত্যাগ করলেন জানতে চাইলে শুক্রবার সকালে ইসলামী ঐকজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতীফ নেজামী কোনো মন্তব্যই করতে চাইলেন না। তিনি বলেন, এটা তার ব্যাপার। তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

মনোনয়ন নিয়ে কোনো মতাৈনক্য তৈরী হয়েছে কিনা শুক্রবার সকালে জানতে চাইলে লতীফ নেজামী বলেন, আমাদের সঙ্গে কিছু হয়নি। তবে কী অভিমান সেটা তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) ইসলামী ঐক্যজোট ছেড়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দেন তিনি। জমিয়তে যোগদানের ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে তার মনোনয়ন নিশ্চিত করার শর্তারোপও করেন।

ইসলামী রাজনীতি বিশ্লেষকগণ বলছেন, কিছু কিছু রাজনীতিকদের দেখে মনে হয় এরা ক্ষমতার জন্যই ইসলাম করে, ইসলামী রাজনীতি করে। তাদের সামনে দ্বীন নেই। এরা ক্ষমতার জন্যই কারও বিরোধিতা করে। প্রকৃত অর্থেই নির্বাচনের আগে আগে গদি আর পদের লোভে যারা দলত্যাগ করে তারা ধর্মব্যবসায়ী। ধর্ম নিয়ে তারা রাজনীতি করছে।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসবিচ মুফতি ফয়জুল্লাহ এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তারা ফোন রিসিভ করেননি।

মধুপুরের পীর আবদুল হামিদ মনোনয়ন না পেয়ে ইসলামী ঐক্যজোট ছেড়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দেয়াটা কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দলবদলে কোনো সমস্যা আমি দেখছি না। তবে যারা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইসলামের নাম ভাঙিয়ে দলবদলের খেলায় মেতে ওঠে তা অবশ্যই দুষনীয়। ইসলাম এটাকে পছন্দ করে না।

তিনি বলেন, এ মাওলানা তো স্বীকৃতিকে পেশাবের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এখন দেখছি দলবদলেও অবদান রাখছেন।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে ইসলামী ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে বিরোধ হয় মাওলানা আব্দুল হামীদের। তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ আসন থেকে নৌকা মার্কায় নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। তবে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী আসন বণ্টনের তালিকা থেকে বাদ পড়েন মাওলানা আব্দুল হামীদ। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দলটি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

ইসলামী ঐক্যজোটের একজন দায়িত্বশীল জানান, কয়েকদিন আগে মাওলানা আব্দুল হামিদ মনোনয়ন বিষয়ে দলীয় অফিসে প্রতিনিধি পাঠান। প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি নৌকার মনোনয়ন নিশ্চিত করার বার্তা দেন। এমনকি ইসলামী ঐক্যজোটকে যদি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটিমাত্র আসন দেওয়া হয়, সে আসনটিও তাকে দেওয়ার দাবি করা হয়।

ইসলামী ঐক্যজোট থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জমিয়তের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ পাঠানো হয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তুমুল আওয়ামীলীগ সরকারবিরোধী মানসিকতার এই পীর ইসলামী ঐক্যজোটের আওয়ামী ভাবাপন্ন অবস্থায় কোণঠাসাবোধ করছিলেন। নিজেকে আওয়ামীশিবির বিরোধী প্রমাণ করতেই তিনি জমিয়েতে যোগ দিলেন। তা ছাড়া মহাজোট থেকে সুবিধা পাওয়ার যখন প্রায় ক্ষীণ তখনই নিজেকে সরিয়ে নিলেন। ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। মাওলানা ফজলুল হক আমিনী রহ.-এর প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

অনেকগুলো বিতর্কিত বক্তব্যের জন্যও তিনি সমালোচিত হয়ে আছেন। সরকার কওমী মাদরাসা যে সনদে স্বীকৃতি প্রদান করেছে এর সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন মধুপুরের এই পীর। কওমী মাদরাসা শিক্ষাসনদকে তিনি পেশাবের সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। স্বীকৃতিবিরোধী এই আলেম আবার শোকরানা মাহফিলের মঞ্চে ছিলেন এবং বক্তৃতাও করেছেন।

প্রসঙ্গত, মাওলানা আব্দুল হামীদ হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির। তিনি একই সঙ্গে আর্ন্তজাতিক খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির। ২০১৩ সালে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তৎকালীন ১৮ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ গণভবনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধি হয়ে যোগ দিয়েছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দিচ্ছেন মধুপুর পীর মাওলানা আবদুল হামিদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *