পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কুরআন ও হাদীসের কথা বলছি না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে একটি কথা বলছি। ফজরের নামাযের পর আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন, ‘হে আল্লাহ! এই যে দিন শুরু হচ্ছে এবং আমি জীবনে কর্মের অঙ্গনে প্রবেশ করছি। হে আল্লাহ! আপনার অনুগ্রহে আমার আজকের জীবনের সময়গুলোকে সঠিক কাজে ব্যয় করার তাওফীক দান করুন। আমার সময়গুলো যেন এখানে-ওখানে নষ্ট না হয়ে যায়। আমার সময়গুলো যেন ভালো কাজ ব্যয় হয়।’ দেখবেন সারাদিন আপনি আল্লাহ তাআলার হেফাজতে থাকবেন। দুনিয়ার সবধরণের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবেন।
হাদীস শরীফে এসেছে, যখন সূর্য উদিত হতো, তখন রাসূল সা. এই দুআ পড়তেন-
الحمد لله الذي أقالنا يومنا هذا و لم يهلكنا بذنوبنا
আল্লাহ তাআলার প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে এই দিনটিকে পুনরায় দান করেছেন। এবং আমদের গোনাহের কারণে আমাদেরকে ধ্বংস করে দেননি।
প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময় রাসূল এই দুআ পড়তেন। এর মর্ম হলো, আমরা এই দিনটি পাওয়ার উপযুক্ত ছিলাম না। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে আমাদের কর্মের কারণে রাতেই ধ্বংস করে দিতে পারতেন। কিন্তু নিজ অনুগ্রহে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করেননি।
সুতরাং অন্তরে এই অনুভূতি জাগরূক রাখুন, আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহেই কেবল আমরা এই দিনটি লাভ করেছি। এই দিনটি আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা এই নেয়ামত লাভ করেছি।
এই দুআর মাধ্যমে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে চাইছেন, প্রতিদিনের সূচনা এভাবে করো যে, যেন আমরা সকলেই রাতের বেলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ দয়া করে আমাদেরকে ধ্বংস করেননি। নুতুন করে এই দিবসটি আমাদের দান করেছেন। এখন যখন এই নতুন দিবস, নতুন জীবন পেলাম তখন আমাদের উচিত দিনটিকে সঠিক কাজে ব্যয় করা।
অপরদিকে রাতে শোয়ার সময় উচিত, দিনের বেলায় কী করেছি তার হিাসাব নেওয়া। আজ সকালে আমি যেই ইচ্ছা করেছিলাম, তার উপর কতটুকু অটল থাকতে পেরেছি। আর কোথায় কোথায় আমার বিচ্যুতি হয়েছে। যেখানে যেখানে বিচ্যুতি হয়েছে সেখানে তওবা করে নিজের নিয়তটাকে নবায়ন করে নিন। আর সকালে পোষণ করা নিয়ত ও দোয়ার যেসব বিষয়ের ওপর কায়েম থাকতে পেরেছেন, তার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করুন।
জীবনভর এই আমল করে যান। আল্লাহর রহমতে আশা করা যায়, আপনি ইনশাআল্লাহ কামিয়াব হবেন।
সূত্র: ইসলাহী খুতুবাত খ. ১৬, পৃ. ৬৭


