পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে যেসব মুলমানদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়, জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদে বিশ্বাসী এবং বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তাদের আত্মসমর্পণের এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রক্ষণশীল ইসলামিক পদ্ধতি মেনে চলে এমন মুসলিমদেরও একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার হামি শহরের সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অফিসিয়াল একাউন্টে এই নির্দেশের নোটিশ পোস্ট করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করবে তাদের অপরাধ ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হবে। যারা স্বেচ্ছায় ধরা দিবে তাদের সাজা কম হবে। তাদের দেয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ কোনও ক্লু পাওয়া গেলে পুরো শাস্তি মাফ করে দেয়া হবে জানানো হয় নোটিশে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চীন উইঘুর মসুলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ব্যাপক সরব হয়ে ওঠায় দেশটি সমালোচনার মুখে পড়েছে।তাদের ওপর নজরদারির অভিযোগে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বেইজিং।
চীন এই সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তারা সংখ্যালঘুদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু, ‘চরমপন্থি’ দলগুলোর প্রভাব মোকাবেলায় তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।
তবে চীন তাদের প্রকাশিত নোটিশে আরো বলেছে, যারা কোরান অনুযায়ী সম্পূর্ণ জীবন যাপন করে, অন্যকে টিভি দেখতে বাধা দেয় বা মদ ও ধূমপান নিষিদ্ধ করে এবং বিয়েতে নাচ গানে নিষেধ করে তাদের সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।আপত্তিকর আচরণের তালিকায় আরও রয়েছে, প্রকাশ্যে সরকারি পরিচয়পত্র নষ্ট করা, সরকারের দেয়া বাড়ি, সুবিধা, সিগারেট ও মদ ‘হারাম’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা।
এদিকে গণহারে বন্দীশিবিরে আটকে রাখা ছাড়াও চীনের সরকার মানুষের প্রাত্যহিক ধর্মীয় আচরণকে সীমিত রাখার বিধিনিষেধও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা।


