রিজার্ভেশন বহালে আন্দোলনে যাবে জমিয়তে উলামা হিন্দ

রিজার্ভেশন বহালে আন্দোলনে যাবে জমিয়তে উলামা হিন্দ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুম্বাই : মুসলিম রিজার্ভেশন বহাল রাখতে আগামী ২৩ নভেম্বর দলীয় সকল সদস্য ও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে জেলার কালক্টের ও তহসিল অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে জমিয়তে উলামা মহারাষ্ট্র। সেসময় কমিশনার, কালেক্টর, ডেপুটি কালেক্টর ও তহসিলদার বরাবর একটি স্মারকলিপিও পাঠানো হবে। জমিয়তে উলামা মহারাষ্ট্র আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

রোববার (১৮ নভেম্বর) ভারতের বিহারে জমিয়তে উলামা মহারাষ্ট্র আয়োজিত মজলিসে আরাকানে আমেলা ও বিশেষ মেহমানদের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সকল সদস্য ও আগত বিশেষ মেহমানদের পরামর্শ শেষে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় জমিয়তে উলামা হিন্দ মহরাষ্ট্র সভাপতি মাওলানা নাদিম সিদ্দিকী বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫১ সাল থেকেই ভারতে মুসলমানদের সামাজিক, আর্থ সামাজিক, শিক্ষা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বিপ্লব করে আসা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভা ও কনফারেন্সের মাধ্যমে রিজার্ভেশন বিষয়টিকে স্থায়ীভাবে বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে সেই প্রথম থেকেই। জমিয়তে উলামা হিন্দের সাবেক সভাপতি ফিদায়ে মিল্লাত সাইয়্যেদ আসআদী মাদানী রহ. রিজার্ভেশন ইস্যুটিকে পরিপূর্ণ গুরুত্বের সাথে দেখেছেন এবং এ ইস্যুতে আন্দোলন করেছেন। সর্বেশেষ এ আন্দোলন সফল হয়েছে। ফলে রাজ্যের অন্ধ প্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিম বাঙ্গলার মুসলমানরা রিজার্ভেশন পায়।

মাওলানা নাদিম বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানীর নির্দেশনাতেই জমিয়ত উলামা হিন্দ মহারাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা রিজার্ভেশন আদায়ে বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য বৈঠক করেছি৷ যার ফলে বিগত সরকারের আমলে মুসলমানদের জন্য ৫ শতাংশ রিজার্ভেশন বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজ্য শাসন একটা বিরূপ আচারণ করেছে। আদালত শিক্ষা খাতে রিজার্ভেশন মঞ্জুরি দেয়ার পরেও মুসলমানদের রিজার্ভেশন বন্ধ করে দিয়েছে তারা৷ এবারও যখন সরকার মারাঠিদের জন্য রিজার্ভেশনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং মুসলিম রিজার্ভেশনের ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। তখন আমরা রিজার্ভেশন আদায়ে আবােরা আন্দোলনে যাব।

উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর মুসলিম রিজার্ভেশন বহালের জন্য আন্দোলন করার পর ২৬ নভেম্বর পরিস্থিতি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করা হবে।
এসময় জমিয়তে উলামা মহারাষ্ট্রের সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা হুযাইফা কাসেমী বলেন, আমরা সবাই যার যার এলাকার দায়িত্বশীল। আমরা জনসাধারণের মাঝে খুব উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার খেদমত চালু করবো এবং তানযীমের সাহায্য ও ত্যাগের মাধ্যমে তাদের সামনে দলের পরিচয় তুলে ধরবো।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *