হাজী আবদুল ওয়াহাবের জানাযায় লাখো মানুষে ঢল

হাজী আবদুল ওয়াহাবের জানাযায় লাখো মানুষে ঢল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তান তাবলীগ জামায়াতের আমির হাজী আবদুল ওয়াহাবের জানাযায় লাখো লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। রোববার মাগরিবের পর তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাইবেন্ড এর সুন্দর রোড ইজতেমা মাঠে তার নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয় বলে খবর দিয়েছে পাক জার্নাল ডেইলি পাকিস্তান।

পাকিস্তান জার্নালগুলোর তথ্যমতে, পাকিস্তান তাবলীগ জামায়াতের মুরব্বী হাজী আবদুল ওয়াহাবের ওসিয়ত অনুযায়ী সুন্নাত তরিকায় তার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাবলীগের সঙ্গে যুক্ত এই দাঈ দ্রুত কাফন দাফনের কথা ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন।

তার জানাযায় পাকিস্তান পাঞ্জাব প্রদেশের স্পিকার পারভেজ এলাহিসহ পাঞ্জাব পরিষদের বহু শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাবলিগ জামায়াতের মুরব্বি হাজী আব্দুল ওয়াহাবের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, হাজী আবদুল ওয়াহাব দীনের অনেক বড় দাঈ ছিলেন। তার জায়গা পূরণ হবার নয়। ইসলামের খেতমতে তিনি নিজের সবধরনের সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন। তাকে মানুষ স্মরণ করবে চিরকাল।

প্রসঙ্গত, রোববার (১৮ নভেম্বর) ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেন পাকিস্তান রায়বেন্ড মার্কাজের জিম্মাদার হাজী আব্দুল ওয়াহাব । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

হাজী আব্দুল ওয়াহাবের মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব তাবলীগ সাথীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ভারতে দিল্লীর নিযামুদ্দীন মারকাযে বিশেষ আমলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাবলীগের প্রবীণ এ মুরব্বীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করছেন তাবলীগ জামাতের বিশ্ব মারকায নিজামুদ্দীনের দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা সাদ কান্ধলভী।

উল্লেখ্য, প্রসঙ্গত, হাজী আব্দুল ওহাব ১৯২৩ সালের পয়লা জানুয়ারী ‌ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লাহোর ইসলামিয়া কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি মাদরাসায় পড়ুয়া কোন আলেম ছিলেন না। তবে দাওয়াত ও তাবলীগের সিলসিলায় নিজের পুরো জীবনকেই উৎসর্গ করেছেন। জীবনে কখনোই দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ থেকে জুদা হতে পারেননি।

উল্লেখ্য, স্নাতকোত্তরের পর তিনি পূর্ব-ভারতে তহসিলদার হিসেবে চাকুরি করেন। তিনি যুব ক্লাব মজলিস-ই-আহরার-ই-ইসলামের জন্যও কাজ করেন এবং ভারতের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক রাহবার মা্ওলানা আব্দুল কাদির রায়পুরি রহ. (১৮৭৮-১৯৬২) দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি মজলিস-ই-আহরার-এর বুয়েওয়ালার সভাপতি ছিলেন।

তিনি তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর জীবনকালেই তাবলীগে জামায়াতের সাথে যুক্ত হন। ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি নিজামুদ্দীন মার্কাজে আসেন এবং ৬ মাস ধরে সেখানে মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর সান্নিধ্যগ্রহণ করেন। তাবলীগে পুরোপরিভাবে সময় ও দ্বীনি কাজ প্রচারের জন্য তিনি তাঁর চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম সেই পাঁচজন লোক, যারা তাদের সমগ্র জীবন তাবলীগের কাজ করার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভী, ইউসুফ কান্ধলভী এবং ইনামুল হাসান কান্ধলভীর সরাসরি সঙ্গী ছিলেন।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *