মেয়ে বলে জঙ্গলে ফেলে দিলেন মা

মেয়ে বলে জঙ্গলে ফেলে দিলেন মা

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার মেয়ে হওয়ার পর থেকেই মন খারাপ মায়ের। তার ওপর অসুস্থ ছিল শিশুটি। পায়ে টিউমার, যা থেকে খারাপ কিছু হতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল চিকিৎসকদের।

এমন অবস্থায় গত ১০ জুলাই হাসপাতাল থেকে বন্ড দিয়ে শিশুটিকে ছাড়িয়ে নেন মা। পরে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে ফেলে আসেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর নিজের মা, মানে শিশুটির নানি। শ্বশুরবাড়ি ফিরে এসে সবাইকে বলেন, মেয়ে মারা গেছে। মায়ের কথায় বিশ্বাস করে বাড়ির লোকজনও আর খোঁজখবর করেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে। বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ থেকে মেয়েকে নিয়েই ওন্দার আমড়াতলা শাল জঙ্গলে ফেলে আসেন মা। তবে কপালজোরে বেঁচে যায় সাত মাসের শিশুটি। জঙ্গলে ফেলে আসার দুদিন পর ভোরে তাকে উদ্ধার করেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কিছু নারী। জঙ্গলের জন্তুজানোয়ারেরা তাকে আঁচড় দিলেও সে বেঁচে ছিল। তাকে আবার নিয়ে আসা হয় বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে। চিকিৎসক ও জেলার প্রশাসনের চেষ্টায় খুঁজে বের করা হয় তার বাবা-মাকে। শিশুটির বাবা দুর্গাপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় দুধের ব্যবসায়ী।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির মা বলেন, ‘ছেলে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবার মেয়ে হয়। তার ওপরে অসুস্থ। সহ্য হচ্ছিল না। তাই ফেলে এসেছিলাম।’

বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান এবং অর্থোপেডিকস বিভাগীয় প্রধান রণদেব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মা মন থেকে শিশুটিকে মেনে নিতে পারছেন না। তাকে দুধও খাওয়াচ্ছেন না। ওই মাকে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।

পরে ওই মা দাবি করেন, ‘আমার জায়েরও দুটি মেয়ে আছে। আমার বড় মেয়ের বয়স চার বছর। ভেবেছিলাম, বংশে বাতি দেওয়ার লোক আসবে। ছেলের মা হলে সংসারে আলাদা খাতির হবে। এখন বুঝতে পারছি, ভুল করেছিলাম। সবাই বকাবকি করছে। আসলে মাথার ঠিক ছিল না।’

মনোবিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাতৃত্বের থেকে বড় হয়ে উঠেছিল মাতৃত্বের মাধ্যমে নিজের প্রাধান্য, গুরুত্ব ও প্রতিপত্তি স্থাপন করা, যা তিনি ছেলের মা হয়ে করতে চেয়েছিলেন। বাকি সব তাঁর কাছে গৌণ ছিল।’

এদিকে এই টানাপোড়নে শিশুটি এখনো হাসপাতালে। এত কিছু বোঝার বয়স হয়নি তার। তার পায়ের টিউমারের টিস্যু পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *