পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বরিশাল-৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বরিশাল-৫ আসনে নয়, বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ) আসনে।
অথচ বরিশাল-৫ (সদর) আসন ছাড়া অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করবেন না বলে কয়েকদিন অাগে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারও। আলাল ও সরোয়ার উভয়ই বিএনপির যুগ্মমহাসচিব। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ট নেতা হিসাবে পরিচিত আলাল। বরিশাল বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিরও দায়িত্বপালন করেন।
এদিকে এবার আলালের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সারফুদ্দিন সান্টুকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর আলালের কাঙ্ক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আরেক যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার।
ছাত্রদল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে আসা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন দীর্ঘসময়। তিনি ঢাকার রাজনীতিতেও সক্রিয় বহুদিন ধরে।২০০৮ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদপুর-আদাবর আসনে নির্বাচন করেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপির রাজনীতিতে একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার নামে। গত এক দশকে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন। রাজপথ কাঁপানো এ নেতা মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় মুখ। সুবক্তা হিসেবে রাজনৈতিক মহলে তার ব্যাপক পরিচিতি। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিয়মিত টকশো করেন তিনি।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ভোটে না থাকার রহস্য কি? দলীয় মনোনয়ন পেয়েও কেন তিনি নির্বাচন করছেন না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা হচ্ছে।
কেউ কেউ বলছেন, কাঙ্ক্ষিত আসন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় নাখোশ হয়েছেন আলাল। কারণ তিনি আগেই বলে রেখেছিলেন-ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে ভোট করবেন না।
অনেকে বলছেন, বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার। ওই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে সরোয়ারের কাছে হেরে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছেন না আলাল। তাই হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে ভোট থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলছেন ভিন্নকথা। বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারছেন না। তাদের একজন কারাবন্দি, অন্যজন নির্বাসিত। এমতাবস্থায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন এই নেতা।
আলালের ভাষ্য-‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তারা আমাদের জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল অনুপ্রেরণার উৎস ও উজ্জীবনী শক্তি। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে আমিও সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নই। এ জন্যই আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি।


