যেখানে সবার উপরে ম্যাশ

যেখানে সবার উপরে ম্যাশ

পাথেয় রিপোর্ট : যুদ্ধ জয়ের নায়ক  সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া একজন মানবিক শক্তির অধিকারী এই তরুণ। মানবসেবার পথে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চলছে। হিসাব ক্রিকেটে সব কিছু বদলে দিয়েছেন ম্যাশ। সর্বোচ্চ সত্তর ম্যাচ অধিনায়কত্ব করে এখন সবার উপরে।

আমরা যদি গোড়ার দিকে যাই, ২০০৯ সালে যখন প্রথম জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুই দিনের মধ্যে সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে ইনজুরিতে পড়ে ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে বসেছিল। এরপর ২০১০ সালে আবার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সে দফাতেও কয়েক মাসের মধ্যে ইনজুরিতে পড়ে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল।

তারপর থেকে স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। অধিনায়কত্ব নিয়ে অন্তত কোনো স্বপ্ন ছিল না। সেই স্বপ্ন না থাকা মানুষটিই শুক্রবার উঠলেন অধিনায়কত্বের নতুন এক চূড়ায়। বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক আগে থেকেই ছিলেন। এবার হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড করে ফেললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

আগের ম্যাচেই হাবিবুল বাশারকে স্পর্শ করে ফেলেছিলেন। হাবিবুল বাশার ৬৯ ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। আর মাশরাফি শুক্রবার ৭০তম বারের মতো বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের হয়ে টস করতে নামলেন। মাশরাফি প্রথম দফায় নেতৃত্ব পান ২০০৯ সালে। কিন্তু নেতৃত্বের প্রথম টেস্টেই চোট পেয়ে ছিটকে যান। সেই চোট কাটিয়ে ফিরে ওয়ানডেতে প্রথম নেতৃত্ব দেওয়ার স্বাদ পান ২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে।
আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস মিলিয়ে সেবার ইউরোপ সফরে ৬টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেন মাশরাফি। ওই বছরের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবার নেতৃত্ব দেন দেশের মাটিতে। কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই আরও একবার চোট পেয়ে চলে যান মাঠের বাইরে।
২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে এবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে, এই সময়ে বাংলাদেশের ৬৫ ম্যাচের ৬২টিতেই টস করেছেন তিনি। কেবল বিশ্রাম ও দলের মন্থর ওভার রেটের নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে খেলতে পারেননি তিনটি ম্যাচে।

মাশরাফি বলছিলেন, প্রথম দু বারের অভিজ্ঞতার জন্যই এবার আর অধিনায়কত্ব নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবেননি, স্বপ্নও দেখেননি, ‘শুরু যেমন করেছিলাম সেরকম আশা নিয়ে কিন্তু এবার শুরু করিনি। দু’বার অধিনায়কত্ব পেয়েছি। শুরুতে এক-দুই-তিন বা চার-পাঁচ ম্যাচ পর ইনজুরিতে পড়ে গিয়েছি। বেশ আরলি আমি ইনজুরিতে পড়ে টিম থেকে বাদ হয়েছি। লং টাইম বাইরে ছিলাম।

পরের বার আবার একই পরিস্থিতি। পরে অধিনায়কত্ব আমার ভাবনায় ছিল না। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলা। পরেরবার যখন অধিনায়কত্ব পেয়েছিলাম তারপর থেকে অনেক কিছু আমি ভাবিনি।’

তৃতীয় দফায় এই অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে তার কাছে মনে হয়েছে, যতদিন চালানো যায়, সেটাই ভালো। বিশেষ করে তিনি যে, ১১ জনের এক জন হয়ে দলে আছেন, সেটাকেও বড় পাওয়া মনে করছেন মাশরাফি, ‘এবার যখন অধিনায়কত্ব পাই তখন নিজেকে নিয়ে ভবিষ্যত্ চিন্তা করা বা খেলোয়াড় হিসেবে নিজে কোনো কিছু ঠিক করতাম না। চলতে থাকুক যতদিন চলতে থাকুক—এভাবেই চিন্তা করেছি। এভাবে করতে করতে প্রায় চার বছর হতে যাচ্ছে। এটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য খুব গর্বের। বাংলাদেশ দলের লং টাইম অধিনায়কত্ব করতে পেরেছি। তবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এই দলে ১১ জন যারা পারফর্মার আছে সেই দলের মেম্বার হয়ে থাকা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন মেম্বার হয়ে থাকা।’

বাংলাদেশের সর্বাধিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব

(কমপক্ষে ৩০ ম্যাচ)

অধিনায়ক ম্যাচ জয় পরাজয়

মাশরাফি ৭০ ৩৯ ২৮

হাবিবুল বাশার ৬৯ ২৯ ৪০

সাকিব ৫০ ২৩ ২৬

আশরাফুল ৩৮ ৮ ৩০

মুশফিক ৩৭ ১১ ২৪

খালেদ মাসুদ ৩০ ৪ ২৪

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *