পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খাল উদ্ধারে আগেও সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। কিন্তু বায়ু দূষণের পরিস্থিতি এতই নাজুক, বারবার ঢাকার পরিবেশ সুন্দর করার জন্য উদ্যোগী হওয়া উচিত। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি যে, বসবাসযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের ১৪০ শহরের যে তালিকাটি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে অযোগ্য শহর হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।
২০১৮ সালে বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। যে শহরটিকে তিলোত্তমা করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, তার আজ এ অবস্থা কেন? ময়লা-আবর্জনায় নোংরা, যানজটে স্থবির আমাদের ঢাকা। বর্ষা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা ব্যাপক রূপ নেয়। কারণ নিষ্কাশনব্যবস্থা ধ্বংসপ্রায়। বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা ভালো নয়। মানুষেরও সচেতনতার অভাব রয়েছে। নিম্নাঞ্চল আর মৃতপ্রায় নদীগুলো বাদে ঢাকায় যেটুকু জলাভূমি রয়েছে, তা হচ্ছে লেক। কিন্তু দূষণ, দখল ও ভরাটের কারণে নগরবাসী এসব লেক এবং লেককেন্দ্রিক ইকোসিস্টেম থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না।
গুলশান লেক রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। গুদারাঘাট থেকে আবার হাতিরঝিল পর্যন্ত নিয়মিত নৌপরিবহনও চালু আছে। যন্ত্রচালিত এসব বোটে প্রতিনিয়ত বিপুলসংখ্যক মানুষ লেক পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পানির উৎকট দুর্গন্ধে গুলশান লেকের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। লেকের তীর ঘেঁষে আলিশান বাড়িগুলোর বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ।
লেকের দুই তীরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ, ড্রেন ও পাইপলাইনের মাধ্যমে অনবরত আশপাশের ময়লা আর দূষিত পানি লেকের পানিতে মিশে যাচ্ছে। পানিতে ভাসছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। লেকের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টে গেছে পানির রংও। দূষণের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই লেকে মাঝেমধ্যেই মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।
ওদিকে রাজধানীর মালিবাগ- মৌচাক ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। দুই পাশে পড়ে আছে পানির বোতল, পলিথিনসহ নানা ধরনের পরিত্যক্ত ব্যাগ, ইট, কংক্রিটের টুকরা, ফেনসিডিলের বোতল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দুই পাশে জমে থাকা ধুলাবালিতে গজিয়েছে ঘাসও, যা দেখে খুব সহজেই বোঝা যায় বহুদিন এখানে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পা পড়েনি।
দিন দিন ঢাকার আয়তন বাড়ছে। এটা স্বাভাবিক বিষয়। পরিকল্পিত নগরায়নের চিন্তা বেড়েছে, বেড়েছে উদ্যোগ। রাজধানীতে জল ছিটানোসহ নানা উদ্যোগ এখন চোখে পড়ে। গেল কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও সিটি করপোরেশন দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। এগুলোতো অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। উন্নত বিশে^র মতো করে দূষণমুক্ত পরিবেশ ও বাসযোগ্য ঢাকার স্বার্থে যা যা করা প্রয়োজন সবই বাস্তবায়ন করা উচিত।


