রোমান সাম্রাজ্য পুনরুজ্জীবনের ক্রুসেডীয় স্বপ্ন দেখে ইউরোপ
সগীর আহমদ চৌধুরী : মুসলিমরা সেক্যুলার হলে সাচ্চা সেক্যুলার হন, উদার হলে খাঁটি হন ও নিষ্ঠাবান হন। পক্ষান্তরে অমুসলিমরা হয় কপট, প্রতারক ও প্রবঞ্চক; এদের ভেতর-বাইর এক হয় না, মুখে থাকে মধু বুকে থাকে বিষ, বাইরে সাধু ভেতরে তারা একেকজন সাংঘাতিক খুনি, এদের মুখে থাকে নীতিকথা কিন্তু ভেতরে তাদের থাকে ভিন্ন অ্যাজেন্ডা।
মুসলিম বিশ্বে কামাল আতাতুর্ক একজন সাচ্চা সেক্যুলারের প্রতিচ্ছবি। পশ্চিমা প্রভাবে একদল নিষ্ঠাবান ও খাঁটি উদারনৈতিক মানুষের সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম বিশ্বে। তারা ইউরোপ-আমেরিকার অনুসরণে আরব বিশ্বেও গির্জা, মন্দির এবং অবাধ ধর্মপ্রচার, পরিবর্তন ও গ্রহণের উদারনীতির পক্ষে কথা করছে। আর এ কারণেই পাকিস্তানে সরকারি অর্থায়নে মন্দির নির্মাণের বিরোধিতার বিরোধিতা যেমন করছে, তেমনি বাবরি মসজিদকে মন্দিরে পরিণত করার অন্যায়ের সাথে তুলানা করে আসা সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরকে অন্যায় বলে প্রচার করছে।
আমার বিভিন্ন বক্তব্য ও মতামতের কারণে আমাকে অনেকে ইসলামিক সেক্যুলার বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। ব্যাপারটা আমি স্বীকারও করি। কিন্তু আমার এই সেক্যুলারিজমের মধ্যে কপটতা আছে, আছে প্রতারণা, আছে রাজনীতিক স্বার্থসিদ্ধির অভিসন্ধি। আর এতে আমি অন্যায়ের কিছু দেখি না। কারণ এটি একটি যুদ্ধ, যুদ্ধে ধোঁকাবাজি বৈধ। আজকে আমাদের ভাই রজব তাইয়িব এরদোয়ান এই অর্থেই সেক্যুলার। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে এই ধরনের সেক্যুলার হওয়ার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করি।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার লাভের পর উত্তরাধিকার সূত্রে উজিবেকিস্তান বিপুল পরমাণু শক্তির মালিক ছিল। উজবেকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাধুতা আর শান্তিবাদী দেখাতে গিয়ে সব বোমা ধ্বংস করেন। কি দরকার ছিল এ ধরনের একতরফা সাধুতার? কি লাভ হলো? ইসলাম শান্তির ধর্ম ঠিক, কিন্তু এই ধরনের শান্তিবাদিতা, সাধুতা ইসলাম সমর্থন করে না। আগে বাবরি মসজিদ ফেরত দিক, স্পেনের মসজিদগুলো আবাদ করুক, গ্রিসের হাজার হাজার মসজিদ পুনরুজ্জীবিত করুক, জেরুজালেম ফিরিয়ে দিক। তারপর বিবেচনা করবো আয়া সোফিয়া পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা, কথাটাই বললেন এরদোয়ান।
যে আধুনিক ও কথিত মানবতাবাদী ইউরোপ এখনও ইস্তান্বুল দখল করে পুরোনো রোমান সাম্রাজ্য পুনরুজ্জীবনের ক্রুসেডীয় স্বপ্ন দেখে সেই ইউরোপীয় নীতি-কথায় কীভাবে বিশ্বাস করতে পারি? ইসলাম শান্তির ধর্ম একথা শান্তিবাদীদের জন্যই প্রযোজ্য, নতুবা যারা ধোঁকাবাজ, প্রবঞ্চক, চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রবাজ তাদেরকে তাদের ভাষাতেই জবাবদানে ইসলামে কোনো সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে নীতিকথা একেবারেই বাস্তবতা-বিবর্জিত।
হ্যাঁ, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে অমুসলিমদের যথাযথ অধিকার, সম্মান ও সাম্য প্রদানের বিরোধিতা ইসলামেরই পরিপন্থী। ব্যবসায়, শিক্ষা, চাকরি, নাগরিক সুবিধা ও ধর্মীয় অধিকার অবশ্যই পূর্ণ মর্যাদাসহয় বজায় থাকবে। এতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। কিন্তু অধিকারের নামে সংখ্যালঘুদের অতিতোষণও মেনে নেওয়া যায় না। প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় অমুসলিমদের ওপর জিযিয়াকর আরোপ অপরিহার্য নয় বটে, কিন্তু তাই বলে মুসলিম নাগরিকদের মাঝে অনৈসলাকি দাওয়াত, ধর্ম-অবমাননা, ধর্মদ্রোহিতা ও ধর্মত্যাগের অবাধ নীতি গ্রহণের প্রতি উদারতা প্রদর্শনেরও কোনো সুযোগ নেই।
লেখক : আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


