পাথেয় টোয়েন্টোফর ডটকম : দারুল উলূম দেওবন্দের সিলেবাসে সংযোজন-বিয়োজনের পরামর্শ হয়েছে বলে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুরের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরার বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুরের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা যায়, দারুল উলুম দেওবন্দের মেহমান এই মজলিসে সুরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গত মজলিসে শুরায় নির্বাচিত নতুন ৫ রুকনে শুরাসহ মজলিশে শুরার অন্যান্য সকল রুকনে শুরাগণ৷
মজলিসে শুরার বৈঠকে মাদ্রাসার শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় পড়ালেখার বাৎসরিক উন্নতি-অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কীভাবে ছাত্রদেরকে পড়ালেখা মনযোগী করা যায় সেই বিষয় বিস্তর আলোচনা হয়। আর দেওবন্দের সিলেবাসকে আরো যুগোপযুগী করে তোলার পরামর্শ আসে সবার থেকেই৷ অবশেষে সিদ্ধান্তও নেয়া হয় সিলেবাসে কিছু সংযোজন-বিয়োজন আছে।
উর্দু গণমাধ্যম মিল্লি টাইমসের সূত্রে জানা যায়, মজলিসে শিকার বৈঠকে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষকদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন সাধারণত অনেক কম ধার্য করা হয়। মাদরাসার বাইরে আবাসিক শিক্ষকদের কাজ করার সুযোগ থাকে না। তাই দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষকদের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিশেষ ভাবে মজলিসে শুরায় আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরু এই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আবুল কাসেম নুমানী, মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী, মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল, মাওলানা সালিম কাসেমী, মাওলানা আসরারুল হক, মাওলানা ঈসমাইল আহমদ, মাওলানা আব্দুল আলীম ফারুকী, মাওলানা ইশতিয়াক আহমদ, মাওলানা ঈবরাহিম, মাওলানা হাকিম কালিমুল্লাহ, মাওলানা রহমতুল্লাহ, মুফতি আহমদ খানপুরী, মাওলানা আনওয়ারুর রহমান, মাওলানা আনজার হোসাইন, মাওলানা মাহমুদ, মুফতি নিজাম উদ্দীন, মাওলানা আব্দুস সামাদ।
উল্লেখ্য, দারুল উলুম দেওবন্দ মজলিসে শুরা কর্তৃক পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান৷ উক্ত মজলিসে শুরা কতৃক প্রতি বৎসর কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় দেওবন্দে৷ পাশাপাশি শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাৎসরিক একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বৎসর৷ বরাবরের মতো এবারও শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসেই অনুষ্ঠিত হলো শেষ বৈঠক৷
প্রতিষ্ঠানটির জন্য মজলিসে শুরা কর্তৃক অনুষ্ঠিত সকল বৈঠকের চেয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে বাৎসরিক বৈঠকটি৷ কারণ এ বৈঠকেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পূরো বৎসরের পড়া-লেখা, মাদরাসা পরিচালনা ও আনুষাঙ্গিক অন্যান্য নিয়ম-নীতি নিয়ে আলোকপাত করা হয় বিশেষভাবে৷ পরবর্তী বৎসরের জন্য সকল নিয়ম-নীতিও নির্ধারণ করা হয় এই শেষ বৈঠকেই৷
সূত্র : উর্দু মিল্লি টাইমস, উর্দু ডেইলি পত্রিকা
গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আদিল মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


