পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সমকামীতার ছোবল যখন বিশ্বজুড়ে নতুন এক দাবানল সৃষ্টি করছিল ঠিক তখন তাইওয়ানের জনগণ সমলিঙ্গের বিয়েকে রুখে দিয়ে এক নজীর স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন। অভিনন্দনে ভাসছে তাইওয়ানের জনগণ। শনিবার তাইওয়ানে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটাররা সমকামীতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর বিকৃত চিন্তার বিরুদ্ধে তাওয়ানের জনগণ বিপুল ভোটে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
তাইওয়ানের সর্বোচ্চ আদালত ২০১৭ সালে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা দেয়। সে সময় আদালত জানিয়েছিল, এই রায় দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু রক্ষণশীলদের বিরোধিতার মুখে সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ কারণে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
এই গণভোটে তাইওয়ানের ভোটাররা মোট ১০টি বিষয়ে রায় দেন। একটিতে জানতে চাওয়া হয়, এক নারী ও পুরুষের মিলনকে কি বিয়ে বলে চিহ্নিত করা হবে? আরেকটিতে জানতে চাওয়া হয়, একই লিঙ্গের মিলনকে কি পৃথক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হবে?
সমলিঙ্গের দম্পতিকে বিয়ের মর্যাদা দানের পক্ষে মাত্র ৩০ লাখ ভোটার রায় দেন।
এর আগে ভারতে সমকামিতা কোনো অপরাধ নয় বরে ভারতীয় আদালত রায় দিয়েছিল। সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন।
ব্রিটিশ জমানার এই বিতর্কিত আইনটির সুবাদে ‘অপ্রাকৃতিক যৌনতা’র অপরাধে ভারতে কোনও ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারতো।
১৮৬১ সালের জারি করা ধারাটি ২০০৯ সালে সমকামিতা অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছিল দিল্লির হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আপীল করা হলে ২০১৩ সালে ওই আইনটি বহাল করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। নিজেদের সেই আদেশ আজ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ভারতে এলজিবিটি শ্রেণীভুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তাদের আবেদনে বলেছিলেন, ভারতীয় দন্ডবিধির সেকশন ৩৭৭ এমন একটি আইন যে কারণে সব সময় তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয় – কারণ তাদের যৌনতার দোহাই দিয়ে পুলিশ যখন খুশি তাদের গ্রেফতার করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি, এবিসি নিউজ


