সারাদেশ থেকে রাজাকারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ

সারাদেশ থেকে রাজাকারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরামর্শ

পাথেয় রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারদের তালিকা করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে থানা বা মহাকুমা অথবা জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে এর একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থানা ও জেলা পর্যায়ে রাজাকার, আল বদর, আল-শামস সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ করার জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করারও কাজ চলছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগের বৈঠকে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে সুপারিশ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

এসময় কমিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম এবং কাজী ফিরোজ রশীদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব রাজাকার, আলবদর, আল শামস থানা ও জেলা-মহকুমা পর্যায়ে সরকারি ভাতা নিয়েছিলেন তাঁদের তালিকা সংরক্ষণ করতে জেলা প্রশাসকদের গোপন বার্তা পাঠানো হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হবে। এ জন্যও নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে আসনগুলো অবৈধ ভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে যাদের সদস্য করা হয়েছিল তাদের নাম স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছিল সংসদীয় কমিটি।

স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৫ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সংসদীয় কমিটির সূত্র জানায়, এর আগে গত ২৮ এপ্রিল কমিটির বৈঠকেও স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার কথা উল্লেখ থাকায় রাজাকার, আল বদর, আল শামস বা স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা করার আইনগত ভিত্তি নেই।

আইনে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইনটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

কমিটির বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ বলেন, ‘এখানে কাউকে বেতন, ভাতা দেওয়ার বিষয় নেই। তাই এ জন্য আইন সংশোধন করা লাগে না।’

তিনি বলেন, ‘কারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল ইতিহাসে তাদের নাম থাকতে হবে। এ জন্য কমিটি একটি তালিকা করতে বলেছে।’

সভায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মাণাধীন ‘‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’’ প্রকল্প কাজের অগ্রগতি আগামী ২৮ মে সকাল ১১ টায় সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কমিটি বিগত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, মুক্তিযুদ্ধের তালিকা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *