নিজস্ব প্রতিবেদক ● বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলন। চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী ৫ নভেম্বর উদ্বোধন করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তর এই সম্মেলনের আয়োজন সামনে রেখে কয়েকদিন ধরে রাজধানী বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। এ সম্মেলন নিয়ে রয়েছে বাড়তি উত্তেজনাও। কারণ, এ সম্মেলনেই পরবর্তী সিপিএ চেয়ারপারসন নির্বাচিত হবেন। ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবরে হওয়া সম্মেলনে নির্বাচিত চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর মেয়াদ এই সম্মেলনে শেষ হচ্ছে।
এবার নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সম্মেলন নিয়ে সদস্য দেশগুলোর আগ্রহ অনেক বেশি। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সফল আয়োজনের পর আস্থা ফিরেছে বিশ্ববাসীর। যে কারণে আগেভাগেই বিদেশি অতিথিরা আসতে শুরু করেছেন। সম্মেলনের ৫২টি সদস্য দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকারসহ ছয় শতাধিক সংসদ সদস্যসহ প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ পর্যন্ত ৪৪টি দেশসহ ১৪৪টি সিপিএ ব্রাঞ্চ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সম্মেলনে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ পদাধিকারবলে চিফ প্যাট্রন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাইস প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৯৮৯ সালে প্যাট্রন এবং ভাইস প্যাট্রন নামে সিপিএর দুটি সাংবিধানিক পদ সৃষ্টি করা হয়। ইতোমধ্যে রানি এলিজাবেথ সম্মেলনের সফলতা কামনা করে বাণী পাঠিয়েছেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণী পাঠ করা হবে।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরম্যান্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। এ সম্মেলনে আটটি কর্মশালা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। মিয়ানমারে রাখাইনদের ওপর ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনা এবার বিশ্বের ৫২টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।
বর্ণিল সাজে রাজধানী : সিপিএ সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক এখন বাহারি সাজে সজ্জিত। সংসদ ভবন ও বিআইসিসিতেও বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে সিপিএর নানা কর্মকান্ড। ব্যানার ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর ছবি। সেখানে সংসদ ভবনসহ দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য স্থাপনার ছবিও রয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার : সিপিএ সম্মেলন সামনে রেখে পুরো রাজধানীতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নিরাপত্তাব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করছেন। চার স্তরের নিরাপত্তায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সম্মেলন চলাকালে সংসদ ভবনে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরেও দর্শনাথীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রাজধানীর অভিজাত চারটি হোটেলে সিপিএ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রের সদস্যরা অবস্থান করবেন। সেখানেও সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক হোটেলে আসা-যাওয়া নাগরিকদের ওপর নজরদারি চলছে। এ ছাড়া সম্মেলন চলাকালে রাজধানীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এক বছর আগে বাংলাদেশে সিপিএর ৬২তম সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও ৭ জুলাই ঈদের সকালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনায় অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে। অস্ট্রেলিয়াসহ অনেকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় অনাগ্রহ প্রকাশ করে। স্থগিত করা হয় ওই সম্মেলন। এরপর গত এপ্রিলে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সফল আয়োজনের পর আস্থা ফিরেছে বিশ্ববাসীর।


