পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ইসলামের সঙ্গে মসজিদ অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়’ বলে ভারতের সুপ্রিমকোর্ট ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যে রায় দিয়েছে সে প্রসঙ্গে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ কাসিমী গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন বলে জানা যায়।
মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আল্লাহ পৃথিবীর মাটি তৈরি করার সময় সর্বপ্রথম খানায়ে কাবা তৈরি করেছেন। পৃথিবীর অস্তিত্বের সূচনায় কাবা ঘর। প্রিয় নবী রাসূল সা. মদীনা শরীফে যখন এসেছিলেন, তখন নিজের হাতে মসজিদে নবী নির্মাণ করেছিলেন। ইসলাম ধর্মের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি নিজে হাতে মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এখন সুপ্রিমকোর্ট কী বলে দেবে মসজিদ প্রয়োজন আছে না, নেই? সুপ্রিমকোর্টকে ব্যাখ্যা কে দিয়েছে তা আমার জানা নেই। মসজিদ অঙ্গাঙ্গিভাবে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত।
১৯৯৪ সালে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, নামাজের জন্য মসজিদ অপরিহার্য নয়। সরকার প্রয়োজনে মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিমদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানানো হয়।
ভারতের সুপ্রিমকোর্টে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ সহমত পোষণ করে বিগত দিনের পুরোনো রায় বহাল রাখেন। কিন্তু, বিচারপতি এস আব্দুল নাজির ভিন্নমত প্রকাশ করে মামলাটি আরো বড় বেঞ্চে পাঠানো উচিত বলে মনে করেন।
সুপ্রিমকোর্টের রায় প্রসঙ্গে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু মসজিদে নামাজ পড়লে ২৭ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। জুমার নামাজ মসজিদ ছাড়া হয় না। জামাত মসজিদ ছাড়া হয় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট কেন ওই রায় দিয়েছে তা জানা নেই। সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা দিতে পারে, সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু মসজিদের প্রয়োজন আছে না নেই এ ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের কাছে ব্যাখ্যা চাইলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, কাবা শরীফে নামাজ পড়লে এক লাখ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। লোকে মক্কা নগরে বেড়াতে যায় না। কাবা শরীফের মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। মদীনা শরীফে প্রিয়নবীর সা. রওজা জিয়ারত করার পাশাপাশি মসজিদে নববীতে নামাজের জন্য মানুষের হুড়োহুড়ি পড়ে। এখানেই বোঝা দরকার মসজিদের প্রয়োজন আছে, না নেই। মসজিদ ছাড়া মুসলিমের পরিচয় নেই। মসজিদ নিয়েই মুসলিমের পরিচয়। সুপ্রিমকোর্টের আজকের রায় অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে মসজিদ হবে, না মন্দির তৈরি হবে সে ব্যাপারে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় প্রকাশ্য দিবালোকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী করসেবক নামধারী ধর্মান্ধরা কয়েক শ’ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। অযোধ্যার সেই স্থানেই হিন্দুত্ববাদীরা রাম জন্মভূমি বলে দাবি করে রামের মন্দির নির্মাণ করতে চাচ্ছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আজকের এই রায় অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল মামলার রায়কে প্রভাবিত করবে না। ২৯ অক্টোবর শনিবার থেকে ওই মামলার শুনানি হবে।
তথ্যসংগ্রহ : আদিল মাহমুদ
সূত্র : উর্দু নিউজ পোর্টাল, পার্সটুডে
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


